প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খরচ

 

কুর’আনে আল্লাহ তাআলা অসংযতভাবে ব্যয়কারীদের কথা উল্লেখ করেছেন। এর জন্য দুটি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। একটি ‘ইসরাফ’ (إِسْراف)। অর্থ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খরচ করা। আপনি শপিং এ যান, আপনার একটি শার্টের প্রয়োজন। অথচ একটির পরিবর্তে ৮-১০টি শার্ট কিনলেন আপনার সামর্থ্য আছে বলে। এ ধরনের কাজটি ‘বনী ইসরাফ’।

অবশ্যই শার্ট আপনার কাজে লাগবে, সেগুলো পরতে পারবেন। কিন্তু আপনি যদি প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত কিছু করে ফেলেন সেটাই ‘ইসরাফ’। কুর’আনে ‘বনী ইসরাফ’ ব্যাপারটিকে নিচু করে দেখা হয়েছে।

কিন্তু মানুষের মাঝে আরেক ধরনের খরচের বাতিক আছে যা এর থেকেও অনেক খারাপ। যেটাকে আল্লাহ ‘তাবযীর’ (تَبْذِير) বলেছেন। ‘তাবযীর’ মানে ‘আপনি এমন জিনিসে খরচ করছেন যা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়, এটা কোনো মৌলিক চাহিদা নয়। জিনিসটি আপনি একেবারেই অর্থহীন কারণে কিনেছেন। এই ‘তাবযীর’ দ্বারা কোনো উল্লেখযোগ্য চাহিদাও পূরণ হচ্ছে না।

‘তাবযীর’ শব্দটির মানে বলতে পারেন অতিরিক্ত ব্যয় করা কিংবা অপব্যয় করা, ফালতু জিনিসে খরচ করা। কিন্তু আল্লাহ যেভাবে তাবযীর শব্দটি বর্ণনা করেছেন তা হলো: إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوٓا إِخْوٰنَ الشَّيٰطِينِ ﴾যারা অপ্রয়োজনীয় খরচ করে তারা শয়তানের ভাই।﴿ [সূরা বনী ইজরাইল : ২৭]

এই ঘোষণাটি খুব নিষ্ঠুর মনে হতে পারে। আমি শুধু খরচ করছি বলে, ধরুন, ভিডিও গেমস কিংবা দুবাই যেতে একটি ভ্রমণে অনেক টাকা খরচ করছি। এগুলোর জন্যে আমাকে শয়তানের ভাই হিসেবে কেন আখ্যা দেওয়া হলো?! আল্লাহ বলেননি এটা হারাম কিংবা এটা করো না, কিংবা এ থেকে দূরে থাক। সরাসরি আমাকে শয়তানের অনুগত হিসেবে বিবেচিত করলেন! আল্লাহ এমনটা কেন বললেন? এর পিছনে অনেক কারণ আছে। চলুন বিষয়টা ধীরে ধীরে বুঝার চেষ্টা করি।

আল্লাহ প্রথমেই বলছেন, رَّبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَا فِى نُفُوسِكُمْ ۚ إِن تَكُونُوا صٰلِحِينَ فَإِنَّهُۥ كَانَ لِلْأَوّٰبِينَ غَفُورًا ﴾তোমাদের রব জানেন তোমাদের অন্তরের গভীরে কী আছে। যদি তোমরা প্রকৃত নেককার হয়ে থাক (তবে জেনে রাখ যে) যারা আল্লাহর কাছে বারবার ফিরে আসে আল্লাহ তাদের ব্যাপারে অত্যন্ত ক্ষমাশীল।﴿ [সূরা বনী ইজরাইল : ২৫]

অন্য কথায়, আল্লাহ বলতে চাইছেন, “দেখ আমি জানি তুমি ভুল করবে এবং আবার আমার কাছেই ফিরে আসবে; আবার ভুল করবে, আবার ফিরে আসবে”। আর আল্লাহ এটাই চান…আপনি সব কাজে নিখুঁত হবেন আল্লাহ সে আশা করেননি এবং আপনার মনের অবস্থা তিনি জানেন। এটা প্রথম কথা।

ঠিক এর পরেই আল্লাহ বলছেন, وَءَاتِ ذَا الْقُرْبٰى حَقَّهُۥ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَلَا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا ﴾আর আত্মীয়-স্বজনকে তার প্রাপ্য অধিকার দাও এবং মিসকীন ও মুসাফিরদেরকেও। আর অপব্যয়ে অপচয় করো না।﴿ [বনী ইজরাইল: ২৬] হতে পারে আপনার আত্মীয় কিংবা আপনার পরিবারের সদস্য, তাদেরকে তাদের অধিকার দিয়ে দাও। وَءَاتِ ذَا الْقُرْبٰى حَقَّهُۥ অধিকার দেওয়ার বিষয়টি একবচনে বলা হয়েছে, বহুবচনে বলা হয়নি।
যার মানে, আপনাকে প্রত্যেক আত্মীয়-স্বজনের কথা চিন্তা করতে হবে এবং তাদের পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে। এই আয়াতের নির্দেশ অনুযায়ী আপনাকে আলাদাভাবে প্রত্যেকের কথা ভাবতে হবে। “وَالْمِسْكِينَ” তার কথাও ভাবতে হবে যে অসহায় অবস্থায় রয়েছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে যে অচল তার কথাও ভাবতে হবে। হয়ত তারা অসুস্থ তাই কাজ করতে পারছে না। এরা মিসকিন শ্রেণীর লোক। “وَابْنَ السَّبِيلِ” এবং তাদের কথা যারা পথে রয়েছে; হতে পারে তারা গৃহহীন কিংবা সফরে রয়েছে কিংবা স্থানান্তর ঘটেছে—এধরনের মানুষদের বলা হয়েছে ‘ওয়াব-নাস-সাবিল’ (পথের সন্তান)।

এই মানুষগুলোকে তাদের অধিকার দিয়ে দাও। অন্য কথায়, তাদের সাহায্য করে আপনি তাদের অনুদান করছেন না, তাদের অনুগ্রহ করছেন না বরং তাদেরকে তাদের অধিকার বুঝিয়ে দিচ্ছেন। এই একই আয়াতে আল্লাহ বলছেন وَلَا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا ﴾ফালতু জিনিসে খরচ করো না, মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় কর না।﴿

এর মানে কী জানেন?

এই কথাটি একই আয়াতে রেখে আল্লাহ প্রথমত বুঝাতে চাচ্ছেন যে, যেই টাকা আপনি অযথা কাণ্ডজ্ঞানহীন হয়ে খরচ করেছেন, আসলে সেই টাকার উপর কিছু মানুষের অধিকার ছিল।

আপনি প্রথমত যেই অন্যায় করলেন সেটা সাহায্যপ্রার্থী মানুষের অধিকার খর্ব করলেন। তার উপর আপনি সেই টাকা অযথা নষ্ট করলেন। যখন মানুষের টাকার প্রয়োজন হয় আর টাকার জন্যে তারা মরিয়া হয়ে উঠে, তখন আপনি তাদের সাহায্য করতে পারতেন কিন্তু করেননি।

আমাদের মাঝে লক্ষ লক্ষ মানুষ আছে যারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন, কিন্তু এই লক্ষ মানুষ টাকা নষ্ট করে চলেছে সাহায্য করার বদলে। এই যে অযথা খরচের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, এতে করে একদিকে যারা প্রচণ্ড অর্থকষ্টে আছেন তারা চাহিদা পূরণের জন্য বেপরোয়া হয়ে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করবেন। এভাবে আপনি সমাজে অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারেন।

কেননা, আপনি খেয়াল করে দেখবেন—পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের নিম্ন আয়গোষ্ঠীর মাঝে অপরাধ প্রবণতা অনেক বেশি। যখন তাদের চাহিদাগুলো পূরণ হবে না, আরও বেশি মানুষ অপরাধের দিকে ঝুঁকে
পড়বে। আরও বেশি তরুণেরা মরিয়া হয়ে উঠবে। তারা এমন কাজ করে বসবে যা নিয়ে পরে আফসোস করতে হবে। এটা তরুণীদের বেলায়ও হতে পারে। শয়তান তো এটাই চায়!

ওসব লোকেদের চাহিদাগুলোকে মূল্যায়ন না করে, শয়তানের পথে অযথা অপব্যয় করে আপনি শয়তানকে একটা অসৎ সমাজ তৈরি করতে সাহায্য করলেন।
ভারসাম্য বিষয়ে এখানে একটা কথা বলা দরকার। আল্লাহ বলছেন, وَلَا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا ﴾বাড়াবাড়ি রকমের ফালতু খরচ কর না।﴿ আল্লাহ আমাদের চরমপন্থী হতেও নিষেধ করেছেন। অন্য কথায়, আল্লাহ বলছেন না যে “দেখ, তুমি কক্ষনো অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবে না, কক্ষনো না!” উদাহরণস্বরূপ, আপনি দোকানে গিয়ে কিছু ফুল দেখে ভাবলেন “ওয়াও! আমি কিছু ফুল কিনতে চাই” যদিও আপনার ফুলের কোনো দরকার নেই, ফুল ছাড়াও আপনি বেঁচে থাকতে পারবেন! কিন্তু ফুল কিনতে অসুবিধা নেই।
[উসুল আল-ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী খরচ তিন ধরনের হতে পারে: [১] দরকারী-প্রয়োজনীয় (ফরজ), [২] সৌন্দর্যমূলক (তাহসানিয়াত) ও [৩] বিলাসিতা। উস্তাদ এখানে অপ্রয়োজনীয় বলতে সৌন্দর্য, বিশেষত বিলাসিতার বিষয় বুঝিয়েছেন, যেটা না থাকলেও আমরা চলতে পারবো।-প্রকাশক]

আল্লাহ বলছেন, وَلَا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا অর্থাৎ ﴾আপনি হয়ত এমন কিছুতে টাকা খরচ করে ফেলবেন যা আপনার দরকার নেই।﴿ এতে সমস্যা নেই কিন্তু এটা যেন আপনার অভ্যাসে পরিণত না হয়। এটা যেন মাত্রাতিরিক্ত না হয়। এটা এতটা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যেন চলে না যায় যে আপনি শত-সহস্র টাকা খরচ করে ফেলছেন। অনেক ক্ষেত্রেই মানুষ একেবারে ফালতু কাজে মিলিয়ন ডলার খরচ করে। আপনি সেসব মানুষের একজন হবেন না, কারণ এটা শয়তানের কাজ।

এরপরের আয়াতে বলা হয়েছে, إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوٓا إِخْوٰنَ الشَّيٰطِينِ ﴾নিশ্চয়ই যারা বেহুদা খরচ ‘করে’ তারা শয়তানের ভাই।﴿ [সূরা বনী ইজরাইল : ২৭] এখানে অসাধারণ ভাষাশৈলীর দিকে লক্ষ্য করুন। আল্লাহ বলছেন না “ইন্নাল্লাযিনা বাযযারুঃ যারা অযথা খরচ ‘করেছে’ তারা শয়তানের ভাই”। আল-মুবাযযিরীন শব্দ বিশেষ্য, আরবীতে বিশেষ্য একটি স্থায়ী অবস্থা। অর্থাৎ অযথা খরচ করা যাদের অভ্যাস, এটা যাদের স্থায়ী অবস্থা, যারা সবসময়ই অপব্যয় করে তাদেরকে শয়তানের ভাই হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়টা বেশ চমকপ্রদ। কারণ মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে আপনাকে ভোগবাদী সমাজের ব্যাপারে জানতে হবে এবং বিভিন্ন রকমের ভোক্তাদের পছন্দ-অপছন্দের তালিকা তৈরি করতে হবে।

যেমন, কিছু মানুষ আছে যাদের খরচ করার জন্যে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আছে। কিন্তু আলিশান গাড়ি, বড় স্ক্রিনের টিভি ইত্যাদি জিনিসে খরচ করতে করতে ব্যাপারটা তাদের জন্যে একঘেয়ে হয়ে যায়। তখন তারা নতুন আর কোন জিনিসে ব্যয় করা যায় সেটা ভাবতে থাকে! খরচ করার ব্যাপারে তারা সৃজনশীল হয়ে উঠে! এরপর দেখবেন তারা ব্যয় করছে জুয়া খেলাতে, দামি মদ কিনতে। কেউ কেউ হয়ত নোংরামিতে জড়িয়ে পড়ে নিজেদের ক্লাব খুলে বসে। এধরনের কাজ কারবার তারা ক্রমাগত করতে থাকে!

তো এভাবে তারা একটা অভিজাত বিনোদন শিল্প সৃষ্টি করে যেটা মূলত অত্যন্ত ধনী মানুষদের চাহিদা পূরণ করে। কারণ তাদের কাছে ব্যয় করার মতো টাকা থাকে। এজন্য তারা খরচ করতে পারে মদ খেতে, জুয়া খেলাতে, পতিতাবৃত্তিসহ আরও যত ধরনের অসভ্য কাজ রয়েছে। এই শিল্প কখনোই টিকতে পারত না যদি ধনী সমাজের মানুষরা এখানে ব্যয় করা বন্ধ করত। কিন্তু এই মাধ্যমগুলো বাঁচিয়ে রাখতে নিয়মিতভাবে টাকা খরচ করতে হবে, তাদেরকে মুবাযযিরীন বা অপব্যয়ে অভ্যস্ত ব্যক্তি হতে হবে।
ব্যাপারটা এমন না যে তারা জীবনে একবারই এই কাজ করেছে। কারণ যারা ধনী তারা অবশ্যই সংখ্যায় সমাজের নগন্য একটা অংশ। তারা যদি কেবল একবার কি দুইবারই এসব কাজে খরচ করে, ব্যবসার দিক থেকে ভাবতে গেলে যে মানুষগুলো এধরনের সেবা দিয়ে থাকে সে তারা জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে না। তাদের প্রয়োজন নিয়মিত কাস্টমার। নিয়মিতভাবেই অযথা টাকা নষ্ট করে বলে তারা মুবাযযিরীন এ পরিণত হয়েছে। আর এভাবেই তারা সৃষ্টি করে জুয়ার কারখানা, সমৃদ্ধ করে মদের কারখানা, পতিতাবৃত্তিসহ আরো যা যা ভাবতে পারেন!

তারা এরকম একটা পরিবেশ গড়ে তুলে শুধুমাত্র বেহুদা খরচের মধ্য দিয়ে। আমরা এখানে লাখপতি আর কোটিপতিদের নিয়ে কথা বলছি, কিন্তু একটু নিচের পর্যায়েও এটা লক্ষ্য করা যায়। কিছু তরুণ-তরুণী আছে যারা নোংরা ভিডিও অথবা মুভি দেখছে, ওসব ডাউনলোড করছে। তারা হয়ত বলতে পারে ‘আরে! আমি তো শুধু নিজের ক্ষতি করছি, আর কাউকে কষ্ট দিচ্ছি না!’

আসলে সত্যিকার অর্থে আপনি এই জঘন্য কোম্পানিকে নিজের সমর্থন জানাচ্ছেন। তারা এত টাকা করতে পারত না যদি আপনি সেসব ডাউনলোড না করতেন। আমাদের এই সময়ের বড় দুঃখ হলো এই আবর্জনার একটা বিশাল অংশ ডাউনলোড হয় মুসলিম দেশগুলো থেকে।

তো আল্লাহ বলছেন, إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوٓا إِخْوٰنَ الشَّيٰطِينِ ﴾যারা অপব্যয় করতে অভ্যস্ত তারা শয়তানের ভাই﴿ বোধ হয় এজন্য যে আমাদের সময়ের এবং সর্বকালের সবচেয়ে ক্ষতিকারক উদ্যোগগুলো তারা সমর্থন করে চলছে। এরাই এসব কাণ্ডজ্ঞানহীন আবর্জনায় খরচ করে এসব ইন্ডাস্ট্রিকে ধরে রাখে। এই বিষয়টার প্রতিই এখানে নির্দেশ করা হয়েছে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ।

আমরা দায়িত্বশীলরা ভোগবাদ নিয়ে কথা বলি। আমাদের সেসব জায়গায় খরচ করতে হবে যেগুলো দুর্নীতিমুক্ত, যেখানে জোরপূর্বক শ্রম আদায় করা হয় না কিংবা শিশুশ্রম কাজে লাগানো হয় না।

ঠিক একইভাবে আমাদের শুধু এটা জানলেই চলবে না কোথায় পণ্যটি তৈরি হয়েছে, আমাদের বরং এটাও জানতে হবে যে পণ্যটি কিসের জন্যে তৈরি করা হয়েছে। যেই জিনিসটা আপনি কিনছেন, আপনার নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে কেন আপনি এই পণ্যটি কিনছেন, কেন আপনি এই পণ্যের একজন ভোক্তা। আপনি কি এর থেকে ভালো কিছুতে ব্যয় করতে পারেন না?

তো, এখানে একটা চমৎকার ভারসাম্য কাজ করে। দেখুন, আপনি মাঝে মাঝে এমন জিনিসে খরচ করবেন যা ঠিক আপনার প্রয়োজনের মধ্যে পড়ে না। এতে কোনো সমস্যা নেই। অপরদিকে আপনি যদি মুবাযযিরীন (ক্রমাগত এরকম ক্রয়ে অভ্যস্ত) হোন, আপনি তখন শয়তানের ভাই এ পরিণত হবেন। কারণ ব্যাপারটি তখন এভাবে দাঁড়ায় যে—আপনি শয়তানকে শয়তানি ব্যবসা করার সুযোগ করে দিচ্ছেন আর শয়তান আপনাকে বিনোদন দিচ্ছে। এভাবে একজন আরেকজনের ভাই, একজন আরেকজনের সঙ্গী হয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ আপনারা দুজন দুজনকে সমর্থন করছেন। আর এটাই তো শয়তান চাইছে!

আল্লাহ আমাদের শয়তানের ভাই হওয়া থেকে রক্ষা করুন এবং আমরা যেন মুবাযযিরীন কিংবা ইসরাফকারীদের অন্তর্ভুক্ত না হই।

বই: শয়তানের থাবা : আক্রমণ ও কৌশল (পঞ্চম অধ্যায় থেকে)
মূল : উস্তাদ নোমান আলী খান

পাবেন: রকমারি, ওয়াফিলাইফ-সহ বাংলাবাজার ও অনলাইন বুকশপসমূহে। বায়তুল মোকাররম ইসলামী বইমেলায় আমাদের বইগুলো পাবেন “সমকালীন প্রকাশন” এ (স্টল নং ২৯-৩০)।

Md Amir

সত্যকে খুঁজে বেড়াই। সত্যকে আঁকড়ে ধরে থাকি। আর তা অন্যদেরকে অনুপ্রেরণা দেবার চেষ্টা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!