নামাজ আদায়ের নিয়মঃ পর্ব ০৬

পবিত্রতা অর্জন করা

হে মুমিগণ, যখন তোমরা সালাতে দণ্ডায়মান হতে চাও, তখন তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর, মাথা মাসেহ কর এবং টাকনু পর্যন্ত পা (ধৌত কর)। আর যদি তোমরা অপবিত্র থাক, তবে ভালোভাবে পবিত্র হও। আর যদি অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাক অথবা যদি তোমাদের কেউ পায়খানা থেকে আসে অথবা তোমরা স্ত্রী সহবাস কর অতঃপর পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম কর। সুতরাং তোমাদের মুখ ও হাত দ্বারা মাসেহ কর। আল্লাহ তোমাদের ওপর কোনো সমস্যা সৃষ্টি করতে চান না, বরং তিনি চান তোমাদের পবিত্র করতে এবং তার নিআমত তোমাদের ওপর পূর্ণ করতে, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন কর”। [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৬]

কিবলামুখী হওয়া

“আকাশের দিকে বার বার তোমার মুখ ফিরানো আমি অবশ্যই দেখছি। অতএব, আমরা অবশ্যই তোমাকে এমন কিবলার দিকে ফিরাব, যা তুমি পছন্দ কর। সুতরাং তোমার চেহারা মসজিদুল হারামের দিকে ফিরাও এবং তোমরা যেখানেই থাক, তার দিকেই তোমাদের চেহারা ফিরাও। আর নিশ্চয় যারা কিতাবপ্রাপ্ত হয়েছে, তারা অবশ্যই জানে যে, তা তাদের রবের পক্ষ থেকে সত্য এবং তারা যা করে, সে ব্যাপারে আল্লাহ গাফিল নন”। [সূরা আর-বাকারাহ, আয়াত: ১৪৪]

নিয়ত করা

নিয়ত অর্থ সংকল্প করা । নামাজের শুরুতে নিয়ত করা অপরিহার্য। শরীয়তে নিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যক্তির আমল আল্লাহর নিকট গ্রহণীয় হয়না যতক্ষণে বান্দা তার নিয়ত সঠিক না করে নেয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

আমল সমূহ নিয়তের (ইচ্ছার) উপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তাই পাবে যা সে নিয়ত করবে। (বুখারি)

নামাজ শুরুর আগে নির্ধারন করতে হবে, আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে ফরজ পরছি না সুন্নত, কত রাকাত পরবো, কোন ওয়াক্তের ফরজ সালাত পরছি ; এই বিষয়গুলো মনে মনে নির্ধারন করে নেওয়াই যথেষ্ট।

সালাতে তাকবীর বলা এবং তাকবীর বলার স্থানসমুহের বিবরনঃ


তাকবীর এর মাধ্যমে নামাজ শুরু হয়। তাকবীর হলঃ আল্লাহু আকবর বলা। আল্লাহু আকবর অর্থ আল্লাহ সবচেয়ে মহান।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আরম্ভ করার সময় দাঁড়িয়ে তাকবীর বলতেন। অতঃপর রুকূ‘তে যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন, আবার যখন রুকূ‘ হতে পিঠ সোজা করে উঠতেন তখন ‘سَمِعَ اللهُ لِمَن حَمِدَه’ বলতেন, অতঃপর দাঁড়িয়ে ‘رَبَّناَ وَلَكَ الحَمدُ ‘ বলতেন। অতঃপর সিজদায় যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন। এবং যখন মাথা উঠাতেন তখনও তাকবীর বলতেন। আবার (দ্বিতীয়) সিজদায় যেতে তাকবীর বলতেন এবং পুনরায় মাথা উঠাতেন তখনও তাকবীর বলতেন। এভাবেই তিনি পুরো সালাত শেষ করতেন। আর দ্বিতীয় রাক‘আতের বৈঠক শেষে যখন (তৃতীয় রাক‘আতের জন্য) দাঁড়াতেন তখনও তাকবীর বলতেন। (সহীহ বুখারি শরীফঃ হাদিস নং ৭৮৯, ৭৯৫, ৮০৩, মুসলিমঃ ৩৯২, নাসায়িঃ ১০২৩)

তাকবীর বলার সময় উভয় হাত উত্তোলনঃ

যখন নামাজ শুরু করবেন তখন তাকবীর (আল্লাহু আকবর) বলার সময় উভয় হাত কাঁধ বা কান পর্যন্ত উত্তোলন করতে হবে।

কাঁধ পর্যন্ত হস্তদ্বয় উত্তোলন

মুহাম্মাদ ইব্‌নু ‘আমর ইব্‌নু আত্বা (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একদল সাহাবীর সঙ্গে বসা ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাত সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তখন আবূ হুমাইদ সা’ঈদী (রাঃ) বলেন, আমিই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাত সম্পর্কে অধিক স্মরণ রেখেছি। আমি তাঁকে দেখেছি (সালাত শুরু করার সময়) তিনি তাকবীর বলে দু’হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন। আর যখন রুকূ‘ করতেন তখন দু’হাত দিয়ে হাঁটু শক্ত করে ধরতেন এবং পিঠ সমান করে রাখতেন। অতঃপর রুকূ হতে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন যাতে মেরুদন্ডের হাড়গুলো স্ব-স্ব স্থানে ফিরে আসতো। অতঃপর যখন সিজদা করতেন তখন দু’হাত সম্পূর্ণভাবে মাটির উপর বিছিয়ে দিতেন না, আবার গুটিয়েও রাখতেন না। এবং তাঁর উভয় পায়ের আঙ্গুলির মাথা ক্বিবলামুখী করে দিতেন। যখন দু’রাকআতের পর বসতেন তখন বাম পা-এর উপর বসতেন আর ডান পা খাড়া করে দিতেন এবং যখন শেষ রাক‘আতে বসতেন তখন বাঁ পা এগিয়ে দিয়ে ডান পা খাড়া করে নিতম্বের উপর বসতেন।
(সহিহ বুখারীঃ হাদিস নং ৮২৮, তিরমিযী,নাসায়ী,ইবনু মাজাহ)

‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন সালাত শুরু করতেন, তখন উভয় হাত তাঁর কাঁধ বরাবর উঠাতেন। আর যখন রুকূ’তে যাওয়ার জন্য তাকবীর বলতেন এবং রুকূ’ হতে মাথা উঠাতেন তখনও একই ভাবে দু’হাত উঠাতেন এবং ‘سَمِعَ اللهُ لِمَن حَمِدَه’ ও ‘رَبَّناَ وَلَكَ الحَمدُ’ বলতেন। কিন্তু সিজদার সময় এরুপ করতেন না। (সহিহ বুখারীঃ হাদিস নং ৭৩৫, মুসলিম, তিরমিযী, নাসায়ী, আবু দাউদ)

কান পর্যন্ত হস্তদ্বয় উত্তোলন

মালিক ইবনু হুওয়াইরিস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন তাকবীর বলতেন, কান পর্যন্ত উভয় হাত উত্তোলন করতেন। তিনি যখন রুকূ’তে যেতেন উভয় হাত কান পর্যন্ত উত্তোলন করতেন। তিনি যখন রুকূ’ থেকে মাথা তুলতেন তখন “সামি’আল্ল-হ লিমান হামিদাহ” বলতেন এবং অনুরূপ (কান পর্যন্ত উভয় হাত উত্তোলন) করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭৫১)

কাতাদাহ্‌ (রহঃ) হতে উক্ত সূত্রে থেকে বর্ণিতঃ
[মালিক ইবনু হুওয়াইরিস (রাঃ) বলেন যে,] তিনি নাবী(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কানের লতি বরাবর হাত তুলতে দেখেছেন। (সহীহ মুসলিমঃ হাদিস নং ৭৫২, নাসায়ি, আবু দাউদ)

বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা

রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ আমরা নবীদের দল ইফতার তাড়াতাড়ি করতে, সেহরী দেরি করে খেতে এবং নামাজে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখতে আদিষ্ট হয়েছি । (ইবনে হিব্বান)

হাত বাঁধার স্থান

নামাজে হাত কোথায় বাঁধতে হবে তা নিয়ে কয়েকটি মতামত পরিলক্ষিত হয়ঃ

1. নাভীর উপর হাত বাঁধা

2. নাভীর নিচে হাত বাঁধা

3. বুকের মধ্যে হাত বাঁধা

নাভির উপরে বা নিচে হাত বাঁধা

ইমাম তিরমিযী বলেন, আমাদেরকে কুতাইবা বলেছেন, আমাদেরকে আবুল আহওয়াস বলেছেন, তিনি সিমাক ইবন হারব থেকে, তিনি কাবীসাহ ইবন হুলব থেকে, তিনি তার পিতা (হুলব আত-তায়ী ইয়াযিদ ইবন আদী) রাঃ থেকে, তিনি বলেন, রাসুল (সাঃ) আমাদের ইমামতি করতেন, তখন তিনি তার বাম হাতকে তার ডান হাত দিয়ে ধরতেন। (তিরমিযী)
তিরমিযী বলেনঃ সাহাবিগন, তাবেয়ীগন ও পরবর্তী যুগের আলিমগন এ হাদিসের উপর আমল করেন। তারা মত প্রকাশ করেন যে, সালাতের মধ্যে মুসাল্লী তার ডান হাত বাম হাতের উপর রাখবে। তাদের কারো মতে হস্তদ্বয় নাভীর উপরে রাখবে। আর কারো মতে হস্তদ্বয় নাভীর নিচে রাখবে। বিষয়টি তাদের মতে প্রশস্ত। (তিরমিযী)

হস্তদ্বয় রাখার স্থান সম্পর্কে ইমাম আহমাদ থেকে একাধিক মত বর্ণিত হয়েছে। এক বর্ণনায় তিনি বলেছেনঃ নাভীর নিচে রাখবে। অন্য বর্ণনায় তিনি বলেনঃ নাভীর উপরে রাখবে। তৃতীয় বর্ণনায় তিনি বলেনঃ মুসল্লী এ বিষয়ে স্বাধীন, সে যেখানে ইচ্ছা রাখতে পারে; কারন সবই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। বিষয়টি প্রশস্ত। (ইবন কুদামা, আল-মুগনী)

ইমাম আবু দাউদ বলেনঃ আমাদেরকে মুহাম্মাদ ইবন কুদামাহ ইবন আইয়ান বলেন, তিনি আবু বাদর থেকে, তিনি আবু তালুত আব্দুস সালাম থেকে, তিনি (গাযওয়ান) ইবন জারীর দাব্বী থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি বলেনঃ আমি আলী (রাঃ) থেকে দেখলাম, তিনি তার বাম হাতকে তার ডান হাত দিয়ে কব্জির উপর ধরে রেখেছিলেন নাভীর উপরে। (আবু দাউদ)

বুকের উপর হাত বাঁধা

ওয়ায়িল বিন হুজর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি রাসুল (সাঃ) এর সঙ্গে সালাত আদায় করেছি। তিনি স্বীয় ডান হাতকে বাম হাতের উপর রেখে তার সিনার উপর স্থাপন করলেন। (ইবনু খুযায়মাহ)

সালাত শুরু করার দোয়াঃ

سُبْحانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، وَتَبارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُّكَ، وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ

সুবহা-নাকাল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবা-রাকাসমুকা ওয়া তা‘আ-লা জাদ্দুকা ওয়া লা- ইলা-হা গাইরুকা।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনার প্রশংসাসহ আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি, আপনার নাম বড়ই বরকতময়, আপনার প্রতিপত্তি অতি উচ্চ। আর আপনি ব্যতীত অন্য কোনো হক্ব ইলাহ্‌ নেই।

(মুসলিম, আবু দাউদ; তিরমিযী; ইবন মাজাহ্‌, ; নাসাঈ)

অথবা নিচের দোয়াটি

اللّٰهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِيْ وَبَيْنَ خَطَايَايَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ، اللّٰهُمَّ نَقِّنِيْ مِنْ خَطَايَايَ كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ، اللّٰهُمَّ اغْسِلْنْي مِنْ خَطَايَايَ، بِالثَّلْجِ وَالْمْاءِ وَالْبَرَدِ

আল্লা-হুম্মা বা-‘ইদ বাইনী ওয়া বাইনা খাত্বা-ইয়া-ইয়া কামা বা-‘আদতা বাইনাল মাশরিক্বি ওয়াল মাগরিব। আল্লা-হুম্মা নাক্বক্বিনী মিন খাত্বা-ইয়া-ইয়া কামা ইয়ুনাক্কাস্ ছাওবুল আবইয়াদু মিনাদ দানাসি। আল্লা-হুম্মাগসিলনী মিন খাত্বা-ইয়া-ইয়া বিস্‌সালজি ওয়াল মা-’ই ওয়াল বারাদ।

অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি আমার এবং আমার গুনাহসমূহের মধ্যে এমন দূরত্ব সৃষ্টি করুন যেরূপ দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার গুনাহসমূহ থেকে এমন পরিষ্কার করে দিন, যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার পাপসমূহ থেকে বরফ, পানি ও মেঘের শিলাখণ্ড দ্বারা ধৌত করে দিন।
(বুখারী ; মুসলিম)

অথবা নিচের দোয়াটি

وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِيْ فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيْفَاً وَّمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ، إِنَّ صَلاَتِي، وَنُسُكِي، وَمَحْيَايَ، وَمَمَاتِيْ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، لاَ شَرِيْكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ

ওয়াজ্জাহ্‌তু ওয়াজহিয়া লিল্লাযী ফাত্বারাস্ সামা-ওয়াতি ওয়াল আরদ্বা হানীফাও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন। ইন্না সালা-তী, ওয়া নুসুকী ওয়া মাহইয়া-ইয়া ওয়া মামা-তী লিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন। লা শারীকা লাহু ওয়াবিযা-লিকা উমিরতু ওয়া আনা মিনাল মুসলিমীন।

অর্থঃ যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন আমি একনিষ্টভাবে আমার মুখমণ্ডল তাঁর দিকেই ফিরালাম, আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানী বা যাবতীয় ইবাদাত, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব্ব আল্লাহ্‌র জন্য। তাঁর কোনো শরীক নেই। আর আমি এরই আদেশ প্রাপ্ত হয়েছি এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।
(মুসলিম)

তাআওউয পড়া

بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ
“আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম”
অর্থ: বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেন, “সুতরাং যখন তুমি কুরআন পড়বে আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে পানাহ চাও”। [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৯৮]

আস্তে তাসমিয়া পড়া

بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

অর্থঃ পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবু বকর, উমার ও উসমানের পিছনে সালাত আদায় করেছি, তাদের কেউ বিসমিল্লাহ জোরে বলেন নি” (আহমাদ, নাসাই, ইবনে খুযায়মাহ)

সুরা ফাতিহা তিলাওয়াত করা

উবাদা ইবন সাবেদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب».“যে ফাতিহা পড়ল না, তার কোনো সালাত নেই”। (বুখারি, মুসলিম)

﴿ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ١ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ٢ مَٰلِكِ يَوۡمِ ٱلدِّينِ٣ إِيَّاكَ نَعۡبُدُ وَإِيَّاكَ نَسۡتَعِينُ٤ هۡدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ٥ صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنۡعَمۡتَ عَلَيۡهِمۡ٦ غَيۡرِ ٱلۡمَغۡضُوبِ عَلَيۡهِمۡ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ ٧﴾[الفاتحة:1-7 ] 
উচ্চারনঃ আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আ’-লামি-ন। আররাহমা-নির রাহি-ম। মা-লিকি ইয়াওমিদ্দি-ন। ইয়্যা-কা না’বুদু ওয়া ইয়্যা-কা নাসতাই’-ন। ইহদিনাস সিরাতা’ল মুসতাকি’-ম। সিরাতা’ল্লা যি-না আনআ’মতা আ’লাইহিম গা’ইরিল মাগ’দু’বি আ’লাইহিম ওয়ালা দ্দ—ল্লি-ন।

অর্থঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিকুলের রব। দয়াময়, পরম দয়ালু। বিচার দিবসের মালিক।
আপনারই আমরা ইবাদাত করি এবং আপনারই নিকট আমরা সাহায্য চাই।
আমাদেরকে সরল পথের হিদায়াত দিন।
তাদের পথ, যাদেরকে নিয়ামত দিয়েছেন। যাদের উপর (আপনার) ক্রোধ আপতিত হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্টও নয়।

জামায়াতে ইমামের পিছনে মুক্তাদির সুরা ফাতিহা তিলাওয়াত করতে হবে কিনাঃ

যে নামাযে ক্বিরাআত সশব্দে ও জোরে হয় তাকে জেহরী নামাজ বলে। যেমনঃ ফজরের ফরজ ২ রাকাত । শুক্রবার জুময়ার ২ রাকাত । মাগরিবের ফরজ নামাজের প্রথম + দ্বিতীয় রাকাত । এশার ফরজ নামাজের প্রথম +দ্বিতীয় রাকাত ।

যে নামাযে ক্বিরাআত নিঃশব্দে ও চুপেচুপে হয় তাকে সির্রী নামায বলা হয়। জোহরের সব রাকাত। আসরের সব রাকাত, মাগরিবের ফরজ নামাজের তৃতীয় রাকাত। এশার ফরজ নামাজের তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাত । সাধারন সুন্নত ও নফল নামাজ।

ইমামের পিছনে মুক্তাদি সুরা ফাতিহা পড়বে কিনা তা নিয়ে আলেম, ফকীহগণের তিনটি মতামত পাওয়া যায়

  1. মুক্তাদী সিররী সালাতে ইমামের পিছনে সুরাহ ফাতিহা পড়বে, কিন্ত জাহরী সালাতে পড়বে না, ইমামের ক্বিরআত মনোযোগের সাথে শোনবে।
  2. ইমামের পিছনে সকল অবস্থায় (সিররী ও জাহরী সালাত) মুক্তাদী সূরাহ ফাতিহা পড়বে।
  3. মুক্তাদী সিররী হোক আর জাহরী সালাত হোক কোন অবস্থাতেই ইমামের পিছনে সূরাহ ফাতিহা পড়বে না।

জেহরী সালাতে মুক্তাদি সুরা ফাতিহা পাঠ করবে না। ইমামের তিলাওয়াত শুনবে।

আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোন এবং চুপ থাক, যাতে তোমরা রহমত লাভ কর। (সুরা আরাফঃ২০৪)

সির্রী সালাতে মুক্তাদি সুরা ফাতিহা পাঠ করবে।

আবূ হুরায়রা রা: বলেন: যখন ইমাম চুপ থাকেন তখন তোমরা ক্বিরাআত কর, আর যখন ইমাম ক্বিরাআত করে তখন তোমরা চুপ থাক। [বায়হাকীর কিতাবুল ক্বিরাআত, পৃ: ৬৬, সনদ হাসান]

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা:) বলেন: সাহাবাগণ রাসূলুল্লাহ সা: এর পিছনে ঐ সময় ক্বিরাআত করতেন যখন তিনি চুপ থাকতেন, পুণরায় যখন নবী সা: ক্বিরাআত পাঠ করতেন তখন সাহাবাগণ কিছুই ক্বিরাআত করতেন না। আবার যখন তিনি সা: চুপ থাকতেন তখন তাঁরা পাঠ করতেন। [বায়হাকীর কিতাবুল কিরাআত, পৃ: ৬৯; তিনি একে সহীহ বলেছেন]

ইমামের পিছনে সকল অবস্থায় (সিররী ও জাহরী সালাত) মুক্তাদী সূরাহ ফাতিহা পড়বে।

উবাদা ইবন সাবেদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«لا صلاة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب».

“যে ফাতিহা পড়ল না, তার কোনো সালাত নেই”। (বুখারি, মুসলিম)

প্রত্যেক মুসল্লির সূরা ফাতিহা পড়া ওয়াজিব, জেহরী বা সিররী উভয় সালাতের মুক্তাদিগণ এ নিদের্শের অন্তর্ভুক্ত। কারণ, উবাদা থেকে বর্ণিত পূর্বের মারফূ হাদীসে রয়েছে:

«لعلكم تقرؤون خلف إمامكم) قلنا: نعم، هذًّا يا رسول الله:، قال: لا تفعلوا إلا بفاتحة الكتاب؛ فإنه لا صلاةَ لمن لم يقرأْ بها»

“হয়তো তোমরা ইমামের পিছনে তিলাওয়াত কর। আমরা বললাম: হ্যাঁ, দ্রুত পড়ি হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: إلا بفاتحة الكتاب؛ فإنه لا صلاةَ لمن لم يقرأْ بها        ফাতিহা ব্যতীত অন্য কিছু পড় না। কারণ, যে ফাতিহা পড়বে না তার কোনো সালাত নেই”। (আবু দাউদ, তিরমিযী)

মুহাম্মাদ ইবন আবি আয়েশা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

«لعلكم تقرؤون والإمام يقرأ»؟

“খুব সম্ভব ইমামের তিলাওয়াত করার সময় তোমরাও তিলাওয়াত কর”। তারা বলল: আমরা এরূপ করি। তিনি বললেন: 

«لا، إلا أن يقرأ أحدكم بفاتحة الكتاب»“এরূপ কর না, তবে তোমাদের কেউ ফাতিহা পড়লে ভিন্ন কথা”। (আহমাদ)

মুক্তাদী সিররী হোক আর জাহরী সালাত হোক কোন অবস্থাতেই ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়বে না।

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যার ইমাম রয়েছে, তার ইমামের কিরাত মানেই হল তার কিরাত। (মুয়াত্তা মালিক, মুসনাদে আহমাদ, সুনানে ইবনে মাজাহ)

আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তা মনোযোগ দিয়ে শোন এবং চুপ থাক, যাতে তোমরা রহমত লাভ কর। (সুরা আরাফঃ২০৪)

সূরা ফাতিহার শেষে বলবে: آمين ‘আমীন’

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “ইমাম যখন আমীন বলে, তোমরাও আমীন বল, কারণ যার আমীন ফিরিশতাদের আমীনের সাথে মিলে যাবে, তার পূর্বের সকল পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে”। (বুখারি, মুসলিম)

সুরা ফাতিহার সাথে অন্য সুরা মিলানো

সূরা ফাতিহার পর ফজর ও জুমু‘আর দুই রাকাতে এবং জোহর, আসর, মাগরিব ও এশার প্রথম দুই রাকাতে কোনো একটি সূরা মিলানো অথবা কুরআনের যেখান থেকে সহজ তিলাওয়াত করা। আর নফলের প্রত্যেক রাকাতে সূরা মিলানো। আবু কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোহরের প্রথম দু’রাকাতে ফাতিহা পড়তেন ও তার সাথে দু’টি সূরা মিলাতেন। প্রথম রাকাত লম্বা করতেন এবং দ্বিতীয় রাকাত ছোট করতেন। কখনো কখনো আয়াত শোনাতেন। আর আসরের প্রথম দু’রাকাতে সূরা ফাতিহা ও দু’টি সূরা মিলাতেন, প্রথম রাকাত তিনি লম্বা করতেন। ফজরের প্রথম রাকা‘ত লম্বা করতেন, দ্বিতীয় রাকা‘ত ছোট করতেন”। (বুখারি, মুসলিম)

আগের পর্বগুলোঃ

১ম পর্ব

২য় পর্ব

৩য় পর্ব

৪র্থ পর্ব

৫ম পর্ব

Md Amir

সত্যকে খুঁজে বেড়াই। সত্যকে আঁকড়ে ধরে থাকি। আর তা অন্যদেরকে অনুপ্রেরণা দেবার চেষ্টা করি।

2 thoughts on “নামাজ আদায়ের নিয়মঃ পর্ব ০৬

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!