করোনা ভাইরাস (COVID-19) এর উৎপত্তি, উপসর্গ, প্রতিকার

 

‘নভেল’ করোনাভাইরাস কি?
নভেল করোনাভাইরাস (সিওভি) হলো করোনাভাইরাসের এক নতুন প্রজাতি।
নভেল করোনাভাইরাসের মাধ্যমে সৃষ্ট এই রোগটি প্রথম চীনের উহানে চিহ্নিত হয়েছিল। তখন থেকেই রোগটির নাম করা হয়েছিল করোনাভাইরাস রোগ ২০১৯ (কোভিড-১৯)। করোনা থেকে ‘কো’ , ভাইরাস থেকে ‘ভি’, এবং ‘ডিজিজ’ বা ‘রোগ’ থেকে ‘ডি’ নিয়ে এর সংক্ষিপ্ত নামকরণ করা হয়। আগে, এই রোগকে ‘২০১৯ নভেল করোনাভাইরাস’ বা ‘২০১৯-এনসিওভি’ বলা হতো।
কোভিড-১৯ হলো একটি নতুন ভাইরাস যা অতীতের সার্স ভাইরাস এবং কয়েক ধরনের সাধারণ সর্দি-জ্বর জাতীয় ভাইরাসের পরিবারভুক্ত।

করোনাভাইরাসের লক্ষণগুলো কী?

সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গসমূহ:

জ্বর

শুকনো কাশি

ক্লান্তিভাব

কম সাধারণ উপসর্গসমূহ:

ব্যথা ও যন্ত্রণা

গলা ব্যথা

ডায়রিয়া

কনজাংটিভাইটিস

মাথা ব্যথা

স্বাদ বা গন্ধ না পাওয়া

ত্বকে ফুসকুড়ি ওঠা বা আঙুল বা পায়ের পাতা ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া

গুরুতর উপসর্গসমূহ:

শ্বাস নিতে অসুবিধা বা প্রবল শ্বাসকষ্ট হওয়া

বুক ব্যথা বা বুকে চাপ অনুভব করা

কথা বলার বা হাঁটাচলার শক্তি হারানো

আপনার গুরুতর উপসর্গগুলি দেখা গেলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আপনার ডাক্তার বা স্বাস্থ্য পরিষেবার কাছে যাওয়ার আগে থেকে সর্বদা কল করে রাখুন।

হালকা উপসর্গ ছাড়া এমনিতে সুস্থ অনুভব করছে এমন লোকেরা বাড়িতে সকলের থেকে নিজেকে আলাদা করে রেখে (সেল্ফ আইসোলেশনে থেকে) তার ব্যবস্থা নিন।

কোনও মানুষ এই ভাইরাসে সংক্রামিত হয়ে থাকলে, উপসর্গগুলি প্রকাশ পেতে গড়ে 5-6 দিন সময় নেয়, তবে এটি 14 দিন পর্যন্ত সময় নিতে পারে।

COVID-19-এর সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে:

আপনার হাত প্রায়শই পরিষ্কার করুন। সাবান এবং   হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করুন।

কাশি বা হাঁচি হচ্ছে এমন ব্যক্তির থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।

আপনার চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করবেন না।

কাশি বা হাঁচির সময় আপনার নাক এবং মুখটি কনুই ভাঁজ করে বা টিস্যু দিয়ে কভার করুন।

অসুস্থ বোধ করলে বাড়িতেই থাকুন।

জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। আগে থেকে কল করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।

আপনার স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত নির্দেশাবলী অনুসরণ করে চলুন।

 

সংক্রমণের ঝুঁকি আমি কীভাবে এড়াতে পারি?

সংক্রমণ এড়াতে আপনি এবং আপনার পরিবার নিচের চার ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করতে পারেন:

হাত ধোয়া

ঘন ঘন সাবান ও পানি দিয়ে  হাত-ধোয়ার সামগ্রী ব্যবহার করে আপনার হাত ধূয়ে নিন

মুখ ঢেকে হাঁচি দেয়া

কাশি বা হাঁচি দেবার সময় মুখ এবং নাক কনুই দিয়ে বা টিস্যু দিয়ে ঢেকে রাখুন। ব্যবহূত টিস্যুটি তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে দিন

ঠান্ডা লেগেছে বা জ্বরের লক্ষণ আছে এমন ব্যক্তি

ঠান্ডা লেগেছে বা জ্বরের লক্ষণ আছে এমন ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন

আপনার বা আপনার সন্তানের জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিন।

আপনার বা আপনার সন্তানের জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিন

সঠিকভাবে হাত ধোয়ার অন্যতম উপায় কী?

ধাপ ১: প্রবাহমান পানিতে হাত ভেজানো;

ধাপ ২: ভেজা হাতে পর্যাপ্ত পরিমান সাবান ব্যবহার করা;

ধাপ ৩: হাতের পেছনের অংশ, আঙ্গুলের মধ্যের অংশ এবং নখের নিচের অংশসহ হাতের সব অংশই অন্ততপক্ষে ২০ সেকেন্ড ভালোভাবে ধুয়ে ফেলা;

ধাপ ৪: প্রবাহমান পানিতে ভালভাবে কচলে হাত ধোয়া;

ধাপ ৫: একটি পরিষ্কার কাপড় বা এককভাবে ব্যবহার করেন এমন তোয়ালে দিয়ে হাত ভালোভাবে মুছে ফেলা।

আপনার হাত ঘন ঘন ধুবেন। বিশেষ করে, খাবার আগে, নাক পরিস্কার করার পর, কাশি বা হাঁচি দেওয়ার পর এবং বাথরুমে যাওয়ার পরেও।

 হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। যদি হাতে ময়লা থাকে, তবে সব সময় সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন।

 ভাইরাস সংক্রমণের বাড়তি ঝুঁকি এড়াতে অবশ্যই  মাস্ক এর  যথাযথ ব্যবহার করতে হবে  এবং

  এর সাথে অবশ্যই ঘন ঘন হাত ধোয়া, হাঁচি ও কাশি ঢেকে রাখা, এবং ঠান্ডা লাগা বা ফ্লু-এর মতো লক্ষণ রয়েছে (কাশি, হাঁচি, জ্বর) এমন ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা উচিত।

নিজের যত্ন

অসুস্থ বোধ করলে আপনার বিশ্রাম নেওয়া, প্রচুর পরিমাণে জল ও সরবত পান করা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের থেকে আলাদা ঘরে থাকুন এবং সম্ভব হলে একটি নির্দিষ্ট বাথরুম ব্যবহার করুন। প্রায়শই স্পর্শ করছেন এমন জায়গাগুলি পরিষ্কার এবং জীবাণুমুক্ত করুন।

বাড়িতে প্রত্যেকেরই সুস্থ জীবনযাত্রা বজায় রাখা উচিত। স্বাস্থ্যকর ডায়েট বজায় রাখুন, ঘুমান, সক্রিয় থাকুন এবং প্রিয়জনের সাথে ফোন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখুন। সঙ্কটের সময় বাচ্চাদের বড়দের অতিরিক্ত ভালবাসা এবং মনোযোগ প্রয়োজন। যথাসম্ভব নিয়মিত রুটিন এবং সময়সূচি বজায় রাখুন।

কোনও সঙ্কটের সময় দুঃখ হওয়া, মানসিক চাপ অনুভব করা বা বিভ্রান্ত বোধ করা স্বাভাবিক। বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যদের মতো আপনি আস্থা রাখেন এমন মানুষদের সাথে কথা বললে ভালো লাগতে পারে। আচ্ছন্ন বোধ করে থাকলে কোনও স্বাস্থ্যকর্মী বা কাউন্সেলরের সাথে কথা বলুন।

সর্দি, কাশি, জ্বর হলে দেরি করবেন না। ডাক্তারের পরামর্শে ঔষধ খাওয়া শুরু করুন।
লেবু ও আদার পানীয়: গরম আদার পানিতে লেবুর রস যোগ করে পানীয় তৈরি করতে পারেন। আদা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান দূর করদে সাহায্য করে। সাধারণ সর্দি কাশির জীবাণু দূর করতে পারে। অন্যদিকে লেবুতে আছে ভিটামিন সি যা মিউকাস বা শ্লেষ্মা বের করে দিয়ে ব্যথা ও অস্বস্তি থেকে রক্ষা পেতে সহায়তা করে। প্রয়োজনীয় ঔষধ 
Napa 500mg
Fexo 120 mg
Montene 10 mg
এই ঔষুধ গুলো ডাক্তারের পরামর্শে খেতে পারেন।

আপনার যদি জ্বর, মাথা ব্যথা/শরীর ব্যথা,  শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় এবং ৪৮ ঘন্টার বেশি হয় অর্থাৎ আপনার শরীরে করোনার লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় এবং টেস্ট করাতে চাচ্ছেন বলে সিরিয়াল দিতে চাচ্ছেন। টেস্ট করানো/ করোনা পজেটিভ বা নেগেটিভ রেজাল্ট আসতে দেরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে  বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শে  Ivera 6mg + Doxicap 100mg  খেতে  পারেন। কারণ পরীক্ষা করানোর জন্য সিরিয়াল পেতে, রেজাল্ট   পেতে পেতে অনেক দেরি হয়ে যেতে পারে। প্রাথমিক অবস্থায় ট্রিটমেন্ট নেয়া শুরু করলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি (ইনশাআল্লাহ)। 

সর্বোপরি আল্লাহর উপর ভরসা করি। ভাল কাজ করি। সচেতন হই। 

” তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় কর এবং স্বহস্তে নিজেদেরকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না এবং কল্যাণকর কাজ করে যাও, নিশ্চয়ই আল্লাহ কল্যাণকারীদেরকে ভালবাসেন। (সুরা বাকারা) 

 

Md Amir

সত্যকে খুঁজে বেড়াই। সত্যকে আঁকড়ে ধরে থাকি। আর তা অন্যদেরকে অনুপ্রেরণা দেবার চেষ্টা করি।

2 thoughts on “করোনা ভাইরাস (COVID-19) এর উৎপত্তি, উপসর্গ, প্রতিকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!