তাকদির অনুযায়ী কি পাপ কাজ হয় ?

তাকদির অর্থ ভাগ্য। ভাল মন্দ সবকিছুই তাকদির বা ভাগ্যের লিখন। তাহলে পাপ কাজও কি তাকদির অনুযায়ী হয় ?  আর যদি তাই হয় তাহলে আমাকে শাস্তি পেতে হবে কেন ? আল্লাহ কি তাহলে মানবজাতিকে  দিয়ে অভিনয় করাচ্ছে ?

ধরুন আপনার ইচ্ছে হলো আপনি একটা টিভি কিনবেন। আপনার ইচ্ছা পুরনের জন্য এখন আপনি টিভির দোকানের উপর মুখাপেক্ষী। দোকানদার আপনার টিভি কেনার ইচ্ছেটা পুরন করলেও আপনি কোন চ্যানেল দেখবেন এ ব্যাপারে বাধ্য করবে না। আপনার ইচ্ছা শক্তির স্বাধিনতা আছে আপনি স্টার জলসাও দেখতে পারেন আবার ইসলামি চ্যানেলও দেখতে পারেন। ভাল-মন্দ কাজের ইচ্ছে শক্তি আল্লাহর পক্ষ হতে হয়; কিন্তু সেই ইচ্ছে শক্তি আপনি কোন পথে বাস্তবায়ন করবেন তার জন্য আপনি দায়ি ; কারন এব্যাপারে আপনাকে স্বাধিনতা দেয়া হয়েছে। আল্লাহর ইচ্ছা হচ্ছে আমাদের জন্য এক প্রকার শক্তি, যেই শক্তির বলে আমরা ইচ্ছা করতে পারি। আমরা তখনই কেবল ইচ্ছা করতে পারি যখন “আল্লাহর ইচ্ছা” আমাদেরকে ইচ্ছা করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে।
ইচ্ছা করতে পারব কি না এই ব্যাপারে আমরা
আল্লাহর ইচ্ছার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। “আল্লাহর ইচ্ছা” তথা শক্তি ছাড়া আমরা কোন ইচ্ছাই করতে পারি না। কিন্তু ইচ্ছা করার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি “আল্লাহর ইচ্ছা” কর্তৃক প্রাপ্ত হবার পর আমরা “কী ইচ্ছা করব”, সেই ব্যাপারে আমাদের স্বাধীনতা রয়েছে।
الْحَقُّ مِن رَّبِّكُمْ فَمَن شَاء فَلْيُؤْمِن وَمَن شَاء فَلْيَكْفُرْ إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِينَ نَارًا أَحَاطَ بِهِمْ سُرَادِقُهَا وَإِن يَسْتَغِيثُوا يُغَاثُوا بِمَاء كَالْمُهْلِ يَشْوِي الْوُجُوهَ بِئْسَ الشَّرَابُ وَسَاءتْ مُرْتَفَقًا
বলুনঃ সত্য তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত। অতএব, যার ইচ্ছা, বিশ্বাস স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক। আমি জালেমদের জন্যে অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি, যার বেষ্টনী তাদের কে পরিবেষ্টন করে থাকবে। যদি তারা পানীয় প্রার্থনা করে, তবে পুঁজের ন্যায় পানীয় দেয়া হবে যা তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে। কত নিকৃষ্ট পানীয় এবং খুবই মন্দ আশ্রয়। (সুরা কাহফ:২৯)
Say, “The truth is from your Lord”: Let him who will believe, and let him who will, reject (it): for the wrong-doers We have prepared a Fire whose (smoke and flames), like the walls and roof of a tent, will hem them in: if they implore relief they will be granted water like melted brass, that will scald their faces, how dreadful the drink! How uncomfortable a couch to recline on!

সুরা আশ শামস-৮,৯,১০ নং আয়াতে বলা হয়েছে-
فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا
অতঃপর তাকে তার অসৎকর্ম ও সৎকর্মের জ্ঞান দান করেছেন,
And its enlightenment as to its wrong and its right;-
قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّاهَا
যে নিজেকে শুদ্ধ করে, সেই সফলকাম হয়।
Truly he succeeds that purifies it,
وَقَدْ خَابَ مَن دَسَّاهَا
এবং যে নিজেকে কলুষিত করে, সেই ব্যর্থ হয়।
And he fails that corrupts it!

যে সকল বিষয়ে মানুষ নিজ ইচ্ছাশক্তিকে
স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করতে পারে কেবলমাত্র সেই সকল বিষয়েই মানুষকে দায়ী করা হবে।
যেসব বিষয়ে আল্লাহ মানুষকে ইচ্ছা প্রয়োগের
ক্ষমতা/স্বাধীনতা দিয়েছেন। যেমন; ঈমান আনা বা না আনা, হালাল উপায়ে রিযিক অন্বেষণ করা বা হারাম উপায়ে করা, নেকি/গোনাহ কাজ করা বা না করা, ইত্যাদি। এগুলোও তাকদির এর কিতাবে লিপিবদ্ধ করা আছে,কিন্তু এসব কাজের জন্য মানুষই দায়ি। যেমন ধরুনঃ আপনি বললেন-আগামি ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলায় জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হবে। একটা ডায়েরিতে লিখে রাখলেন জার্মানি কোন কোন দলগুলোকে কত কত গোলে হারাবে। এখন যদি সত্যি সত্যি জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হয় তাহলে কি আমরা এ কথা বলব ? যে আপনি ডায়েরিতে লিখেছেন বলে জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে? না না আপনি লিখেছেন বলে জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হয় নি বরং জার্মানি চেস্টা করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হবে বলেই লিখে রেখেছেন। আমরা পাপকাজ করবো বলেই তাকদিরে লিখা হয়েছে ; তাকদিরে লিখা আছে বলে পাপকাজ করি তা কিন্তু নয়। আবার কিছু বিষয় আল্লাহ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এবং তা তাকদিরের কিতাবে লিখেও রেখেছেন। যা তাকদিরে লিখা আছে বলেই হচ্ছে- যেমন; কোন মানুষ কখন জন্মাবে, কখন মারা যাবে, সে কতটুকু রিযিক পাবে, আবহাওয়ার পরিবর্তন, আপনার আমগাছে কয়টা আম ধরবে ইত্যাদি। এসব বিষয় মানুষের সাধ্য/ক্ষমতা/ইচ্ছার অধীন নয়, বরং তাকদির দ্বারা লিপিবদ্ধ, নির্ধারিত এবং নিয়ন্ত্রিত।

  [উল্লেখ্য এসব বিষয়ে মানুষকে
             জবাবদিহি করতে হবে না।]
যে সকল বিষয়ে মানুষের ইচ্ছাশক্তির কোন
স্বাধীনতা নাই, সেসকল বিষয়ে মানুষকে কস্মিনকালেও দায়ী করা হবে না।
কাজেই, যেসকল বিষয়ে মানুষকে পরীক্ষা করা হয়,
সেসকল বিষয়ে যেহেতু মানুষ স্বাধীনভাবে ইচ্ছার
প্রয়োগ ঘটাতে পারে, সেই বিষয়ে আল্লাহ কাউকে বাধ্য করেন না বা কারো ওপর কোন বিষয়কে চাপিযে দেন না,কাজেই এর দায়ভার মানুষের, আল্লাহর নয়। সুরা রা’দ এর ১১ নং আয়াতে……
لَهُ مُعَقِّبَاتٌ مِّن بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ يَحْفَظُونَهُ مِنْ أَمْرِ اللّهِ إِنَّ اللّهَ لاَ يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتَّى يُغَيِّرُواْ مَا بِأَنْفُسِهِمْ وَإِذَا أَرَادَ اللّهُ بِقَوْمٍ سُوءًا فَلاَ مَرَدَّ لَهُ وَمَا لَهُم مِّن دُونِهِ مِن وَالٍ
তাঁর পক্ষ থেকে অনুসরণকারী রয়েছে তাদের অগ্রে এবং পশ্চাতে, আল্লাহর নির্দেশে তারা ওদের হেফাযত করে। আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে। আল্লাহ যখন কোন জাতির উপর বিপদ চান, তখন তা রদ হওয়ার নয় এবং তিনি ব্যতীত তাদের কোন সাহায্যকারী নেই।
For each (such person) there are (angels) in succession, before and behind him: They guard him by command of Allah. Verily never will Allah change the condition of a people until they change it themselves (with their own souls). But when (once) Allah willeth a people’s punishment, there can be no turning it back, nor will they find, besides Him, any to protect.
রিযিক নির্ধারিত বলে ইসলাম মানুষকে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে বলে না, বরং হালালভাবে রিযিক অন্বেষণ করা ফরয ইবাদত। কারণ: রিযিকের ‘পরিমাণ’ নির্ধারিত ; কে কত রিযিক অন্বেষণ করল এটা মানুষের জন্য পরীক্ষা নয়।
বরং এক্ষেত্রে হালাল বা হারাম পন্থা বেছে নেবার
ব্যাপারে মানুষের ইচ্ছার স্বাধীনতা রয়েছে। সে কোন পন্থা অবলম্বন করে এটাই তার পরীক্ষা। ইসলাম এ
শিক্ষাই দেয় যে, যেহেতু রিযিক নির্ধারিত, কাজেই
রিযিক প্রাপ্তির বিলম্ব যেন কাউকে হারামভাবে
রিযিক অন্বেষণে নিয়োজিত না করে।
কাজেই, তাকদির দ্বারা রিযিক নির্দিষ্ট এটা বিশ্বাস করা যেমন ইসলামের নির্দেশ;
তেমনি- হালালভাবে রিযিক অন্বেষণ করাও ইসলামের নির্দেশ এবং রিযিক অন্বেষণে হারাম পন্থা অবলম্বন করা হতে বিরত থাকাও ইসলামের নির্দেশ।
তাকদির বিশ্বাস ঈমানের অঙ্গ। একজন মুসলমানকে এটা অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে আমরা যা করছি, যা করব, যা অর্জন করছি, যা হারাচ্ছি, আমাদের সৌভাগ্য, আমাদের দুর্ভাগ্য সবই পূর্ব নির্ধারিত। লওহে মাহফুজ সৃষ্টির আদিতে যখন সমগ্র মহাবিশ্বের যাবতীয় ভবিষ্যত লিখেছে, তখন সব মানুষের ভাগ্যও বিস্তারিতভাবে লেখা হয়েছে। এ হলো ইসলামি শরিয়া ভিত্তিক তকদীরের মূলনীতি, যাতে বিশ্বাসের বিন্দু মাত্র বিচ্যুতি ঈমানকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিবে। সেই সাথে আপনাকে এও বিশ্বাস করতে হবে যে- মহান রব পরম করুনাময় অসীম দয়ালু, তিনি হলেন সর্বশ্রেষ্ট ন্যায় বিচারক, তিনি কারো প্রতি বিন্দু মাত্র জুলুম করেন না, সকলেই নিজের কৃতকর্মের ফল ভোগ করবে অক্ষরে অক্ষরে।

ইসলামি বই download করুন

আল্লাহ ক্ষমাশীল PDF

কুসংস্কারাচ্ছন্ন ইমান PDF

যাকাতের বিধান PDF

 

506 total views, 6 views today

One thought on “তাকদির অনুযায়ী কি পাপ কাজ হয় ?

  • September 7, 2017 at 6:35 pm
    Permalink

    তাকদিরের ২টি ভাগ আছে। এক প্রকার তাকদির হলো অপরিবর্তনশীল। অর্থ্যাৎ কোন chang হবে না, আর এক প্রকার তাকদির হলো যা আমল,দোয়ার মাধ্যমে পরিবর্তন হতে পারে।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *