জান্নাতে নারীরা কি পাবে

জান্নাতে নারীরা কি পাবে ?
পুরুষরা জান্নাতে হুর পাবে কিন্তু নারীরা কি পাবে ?
কুরআন পুরুষদের জন্য সুন্দর স্ত্রীদের কথা বলে, নারীরা তাহলে কি পাবে”? জান্নাতে নারীদের অবস্থা কি হবে ?  অনেকেই এই প্রশ্নগুলো করে থাকেন।নারীদের প্রতি পুরুষদের দূর্বলতা সহজাত প্রকৃতি। “মানুষের কাছে সুশোভিত করা হয়েছে নারী”। সুরা আলে ইমরান, আয়াতঃ১৪।এই দৃষ্টিতে পুরুষদের আবেগ একমুখী। জান্নাতে পুরুষরা “হুরদের” পেয়ে সন্তুষ্ট হবেন; আর কোরানের মাধ্যমে তার আগাম সংবাদ পেয়েও সন্তুষ্ট। এক্ষেত্রে পুরুষদের মধ্যে কোন বৈচিত্র্য নেই। এখন নারীদের প্রতি মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন,
নারীদের জন্য যদি একাধিক (৭০/৮০) “পুরুষ হুর” এর কথা কোরান হাদীসে থাকত তাহলে কি তারা সকলেই  সন্তুষ্ট হতো ?
নাকি একজন নারীর জন্য একজন “পুরুষ হুর” থাকার কথা থাকলে সন্তুষ্ট হতো ? কেউ কি তার স্বামীকে চাইবে না ? আবার স্বামী + একজন পুরুষ হুর পাওয়ার কথা থাকলে কি সকলেই সন্তুষ্ট  হতো ?       একজন নারী একাধিক পুরুষ সঙ্গী পছন্দ করবে-“এই ভাবনা  আকাংখা কয়জন নারীর মধ্যে বিদ্যমান ? 
উক্ত প্রশ্নগুলো নারীদের করা হলে সব নারীর উত্তর এক হবে না। তাদের উত্তরের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকবে। কেউ হয়তো শুধু স্বামীকেই চাইবে; কেউ হয়ত একজন পুরুষ হুর চাইবে; কেউবা উভয়েই চাইবে!!! আবার কেউ হয়ত শুধু বাবা-মার সাথেই থাকতে চাইবে। নারীদের এমন বৈচিত্র্যের কারণেই নারীদের ব্যাপারে নির্দিস্ট ভাবে পুরুষদের মত বলা হয় নাই। কিন্তু সব নারীর সব চাওয়াই পূরণ হবে। আর ভুলে যাবেন না, আপনার চাওয়াটা কিন্ত জান্নাতে যেয়ে চাইবে হবে। পুরুষ হোক আর নারী হোক, কারো আকাংখা,চাওয়া জান্নাতের নিয়ামতকে অতিক্রম করতে পারবে না। নিচের দলীলগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখুন; আশা করি বুঝতে পারবেন।

“আর পুরুষই হোক অথবা নারীই হোক, যারাই বিশ্বাসী হয়ে সৎকাজ করবে, তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি বিন্দু পরিমাণও যুলুম করা হবে না”। ( সুরা আন নিসাঃ ১২৪)

নিশ্চয়ই মুত্তাকীদের জন্য তাদের রবের নিকট রয়েছে নেয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাত। ( কালামঃ ৩৪)

সেখানে (জান্নাতে) তোমাদের মন যা চাইবে তাই তোমাদের জন্য রয়েছে এবং তোমরা যা দাবি করবে তাও তোমাদের দেওয়া হবে।
( সুরাঃ হা-মীম আস সাজদাহঃ ৩১ )

সেখানে রয়েছে যা কিছু মন চায় এবং যা কিছুতে নয়ন তৃপ্ত হয়। তোমরা সেখানে চিরস্থায়ী হবে।’
(সূরা আয যুখরুফ: ৭১)

মুত্তাকীদের যে জান্নাতের ওয়াদা দেয়া হয়েছে, তার অবস্থা নিম্নরূপঃ তাতে আছে পানির নহর, নির্মল দুধের নহর যারা স্বাদ অপরিবর্তনীয়, পানকারীদের জন্যে সুস্বাদু শরাবের নহর এবং পরিশোধিত মধুর নহর। তথায় তাদের জন্যে আছে রকমারি ফল-মূল ও তাদের পালনকর্তার ক্ষমা। (সুরা মুহাম্মদঃ ১৫)

সেদিন অনেক মুখমন্ডল উজ্জ্বল হবে। তারা তাদের রবের প্রতি তাকিয়ে থাকবে।”
(সূরা কিয়ামাহ: ২২-২৩)

নবী করীম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, “আল্লাহর কসম, জান্নাতীদের জন্য আল্লাহর দর্শন ব্যতিরেকে অধিক প্রিয় ও পছন্দনীয় আর কিছু হবে না।”       (মুসলিম, ১৮১; তিরমিযী)

‘‘তারাতো চিরন্তন জান্নাতে প্রবেশ করবেই, তাদের সাথে তাঁদের বাপ-দাদা, তাদের স্ত্রী এবং তাদের সন্তানদের মধ্যে যারা সৎ ও নেককার তারাও তাদের সাথে সেখানে (জান্নাতে) যাবে। ফেরেশতাগণ চারদিক হতে তাদেরকে সম্বর্ধনা দিতে আসবে এবং বলবে তোমাদের প্রতি শান্তি।’’(সূরা রা‘দ: ২৩)

নারীরা যখন জান্নাতে প্রবেশ করবেন, আল্লাহ তাঁদের যৌবন ফিরিয়ে দেবেন। আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

একবার এক আনছারী বৃদ্ধা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর কাছে দু‘আ করেন তিনি যেন আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘জান্নাতে তো কোনো বৃদ্ধ মানুষ প্রবেশ করবে না।’ এ কথা শুনে বৃদ্ধা বড় কষ্ট পেলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আল্লাহ যখন তাদের (বৃদ্ধদের) জান্নাতে দাখিল করাবেন, তিনি তাদের কুমারীতে রূপান্তরিত করে দেবেন।’
[তাবরানী, আল-মু‘জামুল ওয়াছিত : ৫৫৪৫]

কোনো কোনো সাহাবীর উক্তি থেকে জানা যায় যে, আল্লাহর ইবাদতের অনুপাতে দুনিয়ার স্ত্রীগণ জান্নাতে ডাগরচোখা হূরদের চেয়েও দেখতে অনেক সুন্দরী হবে।

শায়খ উসাইমিন (রহ) বলেন, আল্লাহ তায়ালা স্ত্রীদের কথা উল্লেখ করেছেন স্বামীদের জন্য। কারণ, স্বামীই হলেন স্ত্রীর কামনাকারী এবং তার প্রতি মোহিত। এ জন্যই জান্নাতে পুরুষদের জন্য স্ত্রীদের কথা বলা হয়েছে আর নারীদের জন্য স্বামীদের ব্যাপারে নিরবতা অবলম্বন করা হয়েছে। কিন্তু এর দাবি শুধু এই নয় যে, তাদের স্বামী থাকবে না। বরং তাদের জন্যও আদম সন্তানদের মধ্য থেকে স্বামী থাকবে।

দুনিয়ায় নারীদের অবস্থা নিম্নোক্ত প্রকারগুলোর বাইরে নয় :

১। হয়তো সে বিয়ের আগেই মারা যাবে।

২। কিংবা সে মারা যাবে তালাকের পর অন্য কারো সাথে বিয়ের আগে।

৩। কিংবা সে বিবাহিতা কিন্তু –আল্লাহ রক্ষা করুন- তার স্বামী তার সঙ্গে জান্নাতে যাবে না।

৪। কিংবা সে তার বিয়ের পরে মারা যায়।

৫। কিংবা তার স্বামী মারা গেল আর সে আমৃত্যু বিয়ে ছাড়াই রইল।

৬। কিংবা তার স্বামী মারা গেল। তারপর সে অন্য কাউকে বিয়ে করল।

দুনিয়াতে নারীদের এ কয়টি ধরনই হতে পারে। আর এসবের প্রত্যেকটির জন্যই জান্নাতে স্বতন্ত্র অবস্থা রয়েছে :

১। যে নারী বিয়ের আগে মারা গেছেন আল্লাহ তাকে জান্নাতে দুনিয়ার কোনো পুরুষের সঙ্গে বিয়ে দেবেন। কারণ আবূ হুরায়রা রাদিআল্লাহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

‘কিয়ামতের দিন যে দলটি সর্বপ্রথম জন্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জ্বল; আর তৎপরবর্তী দলের চেহারা হবে আসমানে মুক্তার ন্যায় ঝলমলে নক্ষত্র সদৃশ উজ্জ্বল। তাদের প্রত্যেকের থাকবে দু’জন করে স্ত্রী, যাদের গোশতের ওপর দিয়েই তাদের পায়ের গোছার ভেতরস্থ মজ্জা দেখা যাবে। আর জান্নাতে কোনো অবিবাহিত থাকবে না।’ [মুসলিম : ৭৩২৫]

শায়খ উসাইমীন বলেন, যদি ইহকালে মহিলার বিয়ে না হয়ে থাকে তবে আল্লাহ তাকে জান্নাতে এমন একজনের সঙ্গে বিয়ে দেবেন যা দেখে তার চোখ জুড়িয়ে যাবে। কারণ, জান্নাতের নেয়ামত ও সুখসম্ভার শুধু পুরুষদের জন্য নয়। বরং তা নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য বরাদ্দ। আর জান্নাতের নিয়ামতসমূহের একটি এই বিয়ে।

২। তালাক প্রাপ্ত হয়ে আর বিয়ে না করে মারা যাওয়া মহিলার অবস্থাও হবে অনুরূপ।

৩। একই অবস্থা ওই নারীর, যার স্বামী জান্নাতে প্রবেশ করেন নি। শায়খ উসাইমীন বলেন, ‘মহিলা যদি জান্নাতবাসী হন আর তিনি বিয়ে না করেন কিংবা তাঁর স্বামী জান্নাতী না হন, সে ক্ষেত্রে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করলে সেখানে অনেক পুরুষ দেখতে পাবেন যারা বিয়ে করেন নি।’ অর্থাৎ তাদের কেউ তাকে বিয়ে করবেন।

৪। আর যে নারী বিয়ের পর মারা গেছেন জান্নাতে তিনি সেই স্বামীরই হবেন যার কাছ থেকে ইহলোক ত্যাগ করেছেন।

৫।যে নারীর স্বামী মারা যাবে আর তিনি পরবর্তীতে আমৃত্যু বিয়ে না করবেন, জান্নাতে তিনি এ স্বামীর সঙ্গেই থাকবেন।

৬। যে মহিলার স্বামী মারা যায় আর তিনি তার পরে অন্য কাউকে বিয়ে করেন, তাহলে তিনি যত বিয়েই করুন না কেন জান্নাতে সর্বশেষ স্বামীর সঙ্গী হবেন। কারণ, আবূ দারদা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

‘মহিলা তার সর্বশেষ স্বামীর জন্যই থাকবে।’ [জামে‘ ছাগীর : ৬৬৯১; আলবানী, সিলসিলাতুল আহাদীস আস-সাহীহা : ৩/২৭৫]

হুযায়ফা রাদিআল্লাহু আনহু তাঁর স্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘যদি তোমাকে এ বিষয় খুশী করে যে তুমি জান্নাতে আমার স্ত্রী হিসেবে থাকবে তবে আমার পর আর বিয়ে করো না। কেননা জান্নাতে নারী তার সর্বশেষ দুনিয়ার স্বামীর সঙ্গে থাকবেন। এ জন্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীদের জন্য অন্য কারো সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে জড়ানো হারাম করা হয়েছে। কেননা তাঁরা জান্নাতে তাঁরই স্ত্রী হিসেবে থাকবেন।’ [বাইহাকী, আস-সুনান আল-কুবরা : ১৩৮০৩]

(আল্লাহ ভাল জানেন)

 

Md Amir

সত্যকে খুঁজে বেড়াই। সত্যকে আঁকড়ে ধরে থাকি। আর তা অন্যদেরকে অনুপ্রেরণা দেবার চেষ্টা করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *