কোরআন কার বানী ? ১ম পর্ব

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম وَإِنَّهُ لَتَنزِيلُ رَبِّ الْعَالَمِينَ এই কোরআন তো রাব্বুল আলামীনের নিকট থেকে অবতীর্ণ। (সুরা:আশ শো’আরা,আয়াত ১৯২) Verily this is a Revelation from the Lord of the Worlds. ক্যামেরা আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত মানুষ ভাবতেই পারতো না যে তার অতিক্রম করে আসা মূহুর্তগুলোকে চাইলেই ফ্রেমে বন্দী করে রাখা যায়। তার চলা-ফেরা, তার ভালো লাগা-মন্দ লাগার মূহুর্ত, তার ভালো কাজ – মন্দ কাজের মূহুর্তগুলোকে যে ‘রেকর্ড’ করে রাখা যায়, সেটা মানুষ ভাবতে পেরেছে মাত্র সেদিন। এর আগে মানুষের কাছে এই ব্যাপারটা ছিলো একদমই স্বপ্নের মতো। যেমন একসময় স্বপ্নের মতো ছিলো আকাশে উড়তে পারা…..। আজ থেকে ৩০০ বছর আগে কী কেউ একটি ভিডিও ক্যামেরার কথা চিন্তা করতে পেরেছে? অথবা, তার অতিবাহিত সময়কে বন্দী’ করে রাখতে পারে এমন কিছুর কথাও কী মানুষ ভাবতে পেরেছে? আমরা সবাই সি.সি ক্যামেরার ব্যাপারে জানি। অপরাধ আর অপরাধী সনাক্তকরণের কাজে বহুল ব্যবহৃত একটি ছোট্ট সাইজের ক্যামেরা…। কেউ দোকানে আসলো, চুরি করে কিছু নিয়ে গেলো। যদি দোকানের কোথাও লুকানো সি.সি ক্যামেরা থাকে, তাহলে চোরটা আলটিমেটলি ধরা পড়তে বাধ্য। কারণ, চোরটা দোকানে ঢুকার প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত যা যা করেছে, তার সব রেকর্ড অই সি.সি ক্যামেরায় ততক্ষণে রেকর্ড হয়ে গেছে। কোন স্পটে কোন একদল সন্ত্রাসী যদি কাউকে খুন করে দ্রুত পালিয়ে যায়, এবং অই স্পটে যদি একটি সি.সি ক্যামেরা মনিটরিংয়ে থাকে, তাহলে যতো দ্রুতই খুনীটা পালিয়ে যাক না কেনো, সে ধরা পড়তে বাধ্য। কারণ, তার কৃতকর্মের সব রেকর্ড অই সি.সি ক্যামেরা ততোক্ষণে ধারণ করে ফেলেছে। আজ থেকে ৩০০ বছর আগে, কেউ যদি কাউকে বলতো,- ‘তুমি জানো, তুমি অমুক জায়গায় কী কী করেছ, তা আমি চাইলে এক্ষুণি তোমাকে তোমার সামনে রিপিট করে দেখাতে পারি? সময়টা যদি ৩০০ বছর আগের হয়, তাহলে দ্বিতীয় জন প্রথম জনের কথা শুনে হো হো হো করে হাসা শুরু করতো। তাকে মানসিক সমস্যাগ্রস্ত, পাগল ভাবতো। কিন্তু আজকের সময়ে বসে কী কেউ সেরকম করবে? কেউ যদি এসে ৫ বছর আগের আমার বিয়ের একটা ভিডিও ফুটেজ আমার হাতে দিয়ে বলে,- ‘এই দ্যাখ, ৫ বছর আগে তোর বিয়ের ভিডিও’, তাহলে আমি কী অবাক হবো? ৫ বছর আগে আমি আরো শুকনা ছিলাম। গায়ের রঙ আরেকটু উজ্জ্বল ছিলো। এখনকার মতো ভূড়ি ছিলো না। সেই ৫ বছর আগের ‘আমি’ কে ভিডিওতে নড়তে-চড়তে, কথা বলতে দেখলে কী আমি বিস্ময়ে হতবাক হবো? মোটেও না। এটা আমার জন্য খুবই সাধারণ একটি ব্যাপার। কিন্তু আমার জন্য যা সাধারণ, তা আজ থেকে ৩০০ বছর আগের মানুষের জন্য রূপকথা তুল্য। আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে বলা হচ্ছে- ‘অতএব, কেউ অণু পরিমাণ সৎ কাজ করলে তা সে (হাশরের ময়দানে) দেখবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎ কাজ করলে তাও সে (সেদিন) দেখবে’- সূরা যিলযাল (৭-৮)। কোরআন যখন এই কথাগুলো বলছে, তখন পৃথিবীতে ক্যামেরা আবিষ্কার হয়নি। কেউ অণু পরিমাণ সৎ কাজ করলে তাকে যে রিপিট করে দেখানো সম্ভব তা ১৪০০ বছর আগে কোন মানুষের ধারনার মধ্যে থাকার কথা নয়। তাহলে এই আয়াতটির উল্লেখ কোরানে কিভাবে হলো ? কারন কোরআন কোন মানব রচিত গ্রন্থ নয়। কোরআন আল্লাহর বানী। তার সামনে যদি লিখিত রেকর্ড আনা হয়, এবং বলা হয়,- ‘দ্যাখো, তুমি যা যা করেছ, তার সবটাই এখানে টুকে রাখা আছে। ‘সে বলতে পারে,- ‘না তো। আমি তো এসব করিনি। এসব বানোয়াট, মিথ্যা। বাড়িয়ে লেখা হয়েছে। ‘কিন্তু তার সামনে যদি একটি ভিডিও প্লে করে দেওয়া হয়? তার কৃতকর্মের ভিডিও? সে কতোবার সুদ খেয়েছে, ঘুষ খেয়েছে, কতো রাকাত নামাজ ছেড়ে দিয়েছে, সে কতোবার ব্যাভিচারে লিপ্ত হয়েছে, কতোবার মিথ্যা বলেছে তার সব যদি ভিডিওটাতে সে দেখতে পায়, তার কী অভিযোগের আর বাহানা থাকতে পারে? পারেনা। আল্লাহও বলছেন,- ‘কেউ অণু পরিমাণ সৎ কাজ করলে তা তাকে দেখানো হবে, এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎ কাজ করলে তাও তাকে দেখানো হবে। ‘এই আয়াত যখন নাজিল হচ্ছে, তখন যেহেতু প্রযুক্তি ছিলোনা, ক্যামেরা, ভিডিও এসবের কনসেপ্ট ছিলোনা, তখন মানুষ চাইলেই এই আয়াত শুনে মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে হাসাহাসি করতো। বলতো,- ‘দ্যাখো, আমাদের কাজগুলো নাকী আমাদের মৃত্যুর পরে আবার আমাদের দেখানো হবে। এটাও কী সম্ভব? হাহাহা।’ তাদের জন্য এটা করা যুক্তিযুক্ত ছিলো। কারণ তারা তখন জানেইনা যে, এটাও (ভিডিও রেকর্ড) চাইলে সম্ভব, এবং পরবর্তীতে দেখানোও সম্ভব। তারা কী হাসাহাসি করেছিলো? হ্যাঁ, করেছিলো। যারা ঈমান আনতে পারেনি, তারা এই কথা শুনে নিশ্চই হেসেছিলো। তারা আল্লাহর রাসূলকে পাগল, উন্মাদ বলতো। কিন্তু যারা ঈমান এনেছিলো আল্লাহর উপর, আল্লাহর কিতাবের উপর, তাদের কাছে এসব ক্যামেরা সম্পর্কে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও তারা অবিশ্বাস করেনি। তারা যখন শুনলো, তৎক্ষণাৎ মেনে নিলো। তারা অন্যদের মতো অবিশ্বাস করেনি। হাসাহাসি করেনি। বলেনি,- ‘আরে এটা কীভাবে সম্ভব? এভাবেও হয় নাকী? মুহাম্মদ সাঃ কে বিশ্বাস করি বলে কী তার সব আজগুবি কথাতেও বিশ্বাস করতে হবে? ‘নাহ। তারা সেরকম বলেনি। কোরআনের ভাষায়- ‘আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম।’ তারা এর পেছনের ব্যাখ্যা খুঁজতে যায় নি,যুক্তি খুঁজতে যায়নি। তারা শুধু জানতো, যখন এই কিতাব আল্লাহর নাযিলকৃত কিতাব বলে বিশ্বাস করেছি, তখন এই কিতাব সত্য। কোরানের সূরা আয-যারিয়াতের ৪৭ নাম্বার আয়াতে আছে ‘আমি নিজ হাতে আসমানকে সৃষ্টি করেছি এবং এটাকে সম্প্রসারিত করে চলেছি।’ এখানে আয়াতের শেষে আসমানের সম্প্রসারণ বুঝাতে যে ‘মূসিঊন’ শব্দ আছে, সেটি একটি সক্রিয় বিশেষণ। চলমান ক্রিয়া নির্দেশক, যা নির্দেশ করে কোন কাজ অতীতকাল থেকে শুরু হয়ে বর্তমান অবধি চলছে এবং ভবিষ্যতেও তা হয়ে চলবে। অর্থাৎ, আল্লাহ বলছেন,তিনি মহাবিশ্বকে (এখানে আসমান = মহাবিশ্ব) নিজের হাতে সৃষ্টি করেছেন, এবং সেটাকে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি করেই চলেছেন। ঠিক এই কথাগুলোই বিজ্ঞানি Georges Lemaître এবং বিজ্ঞানি হাবল আমাদের গত শতাব্দীতে জানিয়েছেন। বল তো, আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে, মরুভূমিতে উট চড়ানো এক বালক এমন একটি কথা কিভাবে বললো, যা আধুনিক বিজ্ঞান প্রমান করেছে মাত্র ১৯২৯ সালে? এই কথা না বাইবেলে ছিলো না ইঞ্জিলে। না ছিলো কোন গ্রিক পুরাণে, না কোন মিথোলজিতে। মহাকাশের এমন একটি একটি রহস্যময় ব্যাপার মক্কার একজন নিরক্ষর, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবিহীন লোক মুহাম্মদ সাঃ কোথায় পেলেন? বল তো?’ সমাধানের পথ একটাই আর তা হলো কোরআনকে আল্লাহর বানী বলে বিশ্বাস করা। পিঁপড়া যে কথা বলতে পারে, বা কথা বলে- এ কথা আমরা তখন স্বপ্নেও ভাবি নি। রূপকথার গল্পের মতো শোনালেও সত্য এই যে- পিঁপড়া সমাজ কথা বলতে পারে। তারা শব্দ করেই কথা বলে। হয়তো বা তাদের নিজস্ব ভাষা আছে, বর্ণমালা আছে। ব্রিটিশ এবং স্প্যানিশ বিজ্ঞানীরা একটা এক্সপেরিমেন্ট করলো এটার উপরে। তারা করলো কী, ৪০০ লাল পিঁপড়ার ঘরের মধ্যে 4 mm এর মাইক্রোফোন এবং স্পীকার বসিয়ে দিয়ে আসলো। দেখা গেলো, পিঁপড়াগুলো বেশ কয়েক ধরণের শব্দ করলো। সেই শব্দ রেকর্ড করা হলো। সেই রেকর্ড অন্য কর্মী পিঁপড়াদের কাছে নিয়ে অন করা হলে দেখা গেলো, কর্মী পিঁপড়াগুলো সেই আওয়াজ শুনে ছুটোছুটি শুরু করে। তারা বিভিন্ন রকম এক্সপ্রেশান দেখাতে আরম্ভ করে। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর Jermey Thomas, যিনি এই এক্সপেরিমেন্ট পরিচালনার একজন, তিনি বলেন,- ‘When we played the queen sounds they (other ants) did “en garde” behaviour’ ‘They would stand motionless with their antennae held out and their jaws apart for hours –the moment anyone goes near they will attack.’ ‘Our study shows for the first time that different members make different sounds and that the sounds result in different behaviour.’ শুধু তা-ই নয়, পিঁপড়ারা যে কথা বলে বা বলতে পারে, তার উপরে ABC News একটি ডকুমেন্টারি তৈরি করেছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, পিঁপড়ার কথা বলতে পারাটা একটা সময় অবিশ্বাস্য ঠেকলেও, এখন তা বাস্তব। কিছু বছর আগেও আমরা এমনটি ভাবতে পারিনি। পিঁপড়ার কথা বলাটা কেমন যেন রূপকথার গল্পের মতো যেখানে সব-ই সম্ভব। আরো অবাক করা ব্যাপার, পিঁপড়ারা যে কথা বলার ক্ষমতা রাখে বা কথা বলতে পারে, সেটা আমরা পবিত্র আল কোরআনেও দেখতে পাই। আজ থেকে সাড়ে ১৪০০ বছর আগে নাজিল হওয়া একটি কিতাবে উল্লেখ করা আছে যে ‘পিঁপড়া কথা বলছে’। ব্যাপারটা দারুন না? এই তো সেদিন, গুনে গুনে হয়তো কয়েক বছর আগেই বিজ্ঞানীরা এই তথ্য বের করেছে যে পিঁপড়াও কথা বলে। কিন্তু সাড়ে ১৪০০ বছর পুরোনো কোন কিতাবে যদি সেটার উল্লেখ থাকে, ব্যাপারটা কেমন দাঁড়ায়? আলহামদুলিল্লাহ্‌। বলা হচ্ছে,- ‘যখন তাঁরা (সুলাঈমান আঃ এবং তাঁর বাহিনী) পিঁপড়ার উপত্যকায় পৌঁছালো, তখন একটি পিঁপড়া (সুলাঈমান আঃ এবং তাঁর বাহিনীকে আসতে দেখে) বলে উঠলো,- ‘হে পিঁপড়ার দল, তোমরা নিজেদের গৃহে ঢুকে পড়ো, যাতে অজ্ঞাতঃবসত (না দেখতে পেয়ে) তাঁরা     (সুলাঈমান বাহিনী) তোমাদের পিঁষে না দেয়।’-   সূরা আন নামল : আয়াত ১৮। কিছু বছর আগেও কেউ এই আয়াত দেখে ব্যঙ্গভরে বলতো,- ‘এটা কী ধর্মীয় কিতাব নাকী রূপকথার বই যেখানে পিঁপড়াও কথা বলে?’ কিন্তু আজকের সময়ে দাঁড়িয়ে, বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব কল্যাণের মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি, কোরআন পিঁপড়ার কথা বলার ব্যাপারে যে তথ্য দিয়েছে, তা বিজ্ঞানসম্মত, প্রমাণিত…. শুধু কী তাই? বিজ্ঞান প্রমাণ করে দেখিয়েছে যে, পিঁপড়া তথা পতঙ্গ শ্রেণীর প্রধাণ থাকে স্ত্রী পতঙ্গ। মৌমাছির উপর গবেষণা করে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী Karl Von Frinch তা প্রমাণ করেছিলেন। আল কোরআনের সূরা নমলের ১৮ নম্বর আয়াতে যে পিঁপড়ার কথা বলার ব্যাপারে বলা হয়েছে, এ্যারাবিক গ্রামারের দিক থেকে তার জন্য স্ত্রী লিঙ্গ ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ, যে পিঁপড়াটি অন্য পিঁপড়াদের সুলাঈমান আ: এবং তাঁর বাহিনী আগমনের সংবাদ দিচ্ছিলো, সেটি নিশ্চই দলের প্রধাণ এবং তাঁর নির্দেশ পালনে সবাই বাধ্য। এবং এই পিঁপড়ার জন্য কোরআন স্ত্রী লিঙ্গ ব্যবহার করেছে। আলহামদুলিল্লাহ্‌, আজকে আমরা জেনেছি, পিঁপড়াদের দলনেতা হয় স্ত্রী পিঁপড়া…. এখানেই শেষ নয়। কোরআন যেখানেই বুদ্ধিমান প্রাণীর কথা বর্ণনা করেছে, সেখানেই পুংলিঙ্গ ব্যবহার করেছে। মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীকে নির্দেশ করার সময় ‘ইয়া আইয়্যুহা’ বলে সম্বোধন করেছে। এটা এমন একটা সম্বোধন, যা বুদ্ধিমান এবং বোধ সম্পন্ন শ্রেণীর জন্য ব্যবহৃত। এমনকি, নবীদের সম্বোধনের জন্যও এটা ব্যবহার হয়েছে। বলা হয়- ‘ইয়া আইয়্যুহান নাবিয়্যু’- (হে নবী’) ……. ঠিক এই সম্বোধনটি মহিলা পিঁপড়াটি অন্য পিঁপড়াদের নির্দেশ দেওয়ার জন্য ব্যবহার করেছে। বলা হয়েছে- ‘ইয়া আইয়্যুহান নামালতু’- হে পিঁপড়ার দল’….। এই সম্বোধন থেকে বোঝা যায়, পিঁপড়াও মানুষের মতো বোধ সম্পন্ন। মানুষের মতো কথা বলতে পারে। সংঘবদ্ধভাবে বসবাস করে ইত্যাদি… আয়াতের পরের শব্দে পিঁপড়াদের গর্তে ঢুকে পড়ার জন্য যে ‘উদখুলু’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, এটাও একটা ইউনিক শব্দ। আল কোরআনের অসংখ্য জায়গায় মানুষকে নির্দেশ দানের ক্ষেত্রে এই শব্দের ব্যবহার আছে। আল কোরআনের শব্দ ব্যবহারের এই ধারা থেকে বোঝা যায়, পিঁপড়ারাও বোধ সম্পন্ন মানুষের মতো, যে রহস্য বিজ্ঞান আজ আমাদের সামনে উন্মোচিত করেছে…। ইউসুফ আঃ জন্মগ্রহন করেন বর্তমান ফিলিস্তিনে। ভাইয়েরা ষড়যন্ত্র করে কূপের মধ্যে নিক্ষেপ করে। একদল বনিক ইউসুফ আঃ কে কূপ করে উদ্ধার করে মিশরে নিয়ে যায় এবং বিক্রি করে দেয়। তখন থেকে ইউসুফ আঃ মিশরেই বড় হতে থাকেন। আর এই ঘটনা ঘটে খ্রিস্টপূর্ব চতুর্দশ শতকে আমেনহোটেপের রাজত্বকালের তিনশত বছর পূর্বে। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্দশ শতকে চতুর্থ আমেনহোটেপের আগে যেসব শাসকেরা মিশর শাসন করেছে, তাদের সবাইকে ‘রাজা’ বলে ডাকা হতো। আর খ্রিস্টপূর্ব চতুর্দশ শতকে চতুর্থ আমেনহোটেপের পর যেসকল শাসকেরা মিশরকে শাসন করেছিল তাদেরকে ‘ফিরাউন’ বলা হতো। ইউসুফ আঃ মিশরকে শাসন করেছিলেন খ্রিস্টপূর্ব চতুর্দশ শতকে চতুর্থ আমেনহোটেপের আগে। আর মুসা আঃ জন্মগ্রহন করেন চতুর্থ আমেনহোটেপের দুইশত বছর পর। অর্থ্যাৎ মুসা আঃ যখন জন্মগ্রহন করেন তখন মিশরের শাসকদের আর ‘রাজা’ বলা হতো না। তখন মিশরের শাসকদের ফিরাউন বলা হতো। কোরানে ইউসুফ আঃ এর বেলায় মিশরের শাসকদের ক্ষেত্রে ‘রাজা’ বলা হয়েছে। অথচ একই শহরে মুসা আঃ এর সময়কার শাসকদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে ‘ফিরাউন’ শব্দটি। সুরা বাকারার ৪৯ নম্বর আয়াতে মুসা আঃ এর শাসকদের ফিরাউন বলার প্রমান: وَإِذْ نَجَّيْنَاكُم مِّنْ آلِ فِرْعَوْنَ يَسُومُونَكُمْ سُوَءَ الْعَذَابِ يُذَبِّحُونَ أَبْنَاءكُمْ وَيَسْتَحْيُونَ نِسَاءكُمْ وَفِي ذَلِكُم بَلاء مِّن رَّبِّكُمْ عَظِيمٌ আর (স্মরণ কর) সে সময়ের কথা, যখন আমি তোমাদিগকে মুক্তিদান করেছি ফেরআউনের লোকদের কবল থেকে যারা তোমাদিগকে কঠিন শাস্তি দান করত; তোমাদের পুত্রসন্তানদেরকে জবাই করত এবং তোমাদের স্ত্রীদিগকে অব্যাহতি দিত। বস্তুতঃ তাতে পরীক্ষা ছিল তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে, মহা পরীক্ষা। And remember, We delivered you from the people of Pharaoh: They set you hard tasks and punishments, slaughtered your sons and let your women-folk live; therein was a tremendous trial from your Lord. আর ইউসুফ আঃ এর সময়কার শাসকদের রাজা বলার প্রমান সুরা ইউসুফের ৪৩ নম্বর আয়াত। وَقَالَ الْمَلِكُ إِنِّي أَرَى سَبْعَ بَقَرَاتٍ سِمَانٍ يَأْكُلُهُنَّ سَبْعٌ عِجَافٌ وَسَبْعَ سُنبُلاَتٍ خُضْرٍ وَأُخَرَ يَابِسَاتٍ يَا أَيُّهَا الْمَلأُ أَفْتُونِي فِي رُؤْيَايَ إِن كُنتُمْ لِلرُّؤْيَا تَعْبُرُونَ রাজা বললঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম, সাতটি মোটাতাজা গাভী-এদেরকে সাতটি শীর্ণ গাভী খেয়ে যাচ্ছে এবং সাতটি সবুজ শীষ ও অন্যগুলো শুষ্ক। হে পরিষদবর্গ! তোমরা আমাকে আমার স্বপ্নের ব্যাখ্যা বল, যদি তোমরা স্বপ্নের ব্যাখ্যায় পারদর্শী হয়ে থাক। The king (of Egypt) said: “I do see (in a vision) seven fat kine, whom seven lean ones devour, and seven green ears of corn, and seven (others) withered. O ye chiefs! Expound to me my vision if it be that ye can interpret visions.” কোরান যদি মুহাম্মদ সাঃ লিখতেন তাহলে তিনি এই ইতিহাসের পাঠ কোথায় পেলেন ? এটা তো তার জানার কথা নয়। সুতরাং কোরান আল্লাহর বানি। এখন হয়ত অনেকেই বলবেন মুহাম্মদ সাঃ বাইবেল থেকে কপি করেছেন। অথচ বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্ট এই জায়গায় চরম একটি ভুল করেছে । বাইবেলে ইউসুফ আঃ এর সময়কার শাসকদের এবং মুসা আঃ এর সময়কার শাসকদের উভয় ক্ষেত্রেই ‘ফিরাউন’ বলা হয়েছে। যা একটি ঐতিহাসিক ভুল। সুরা আল ফাজর এর ৬ ও ৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-‘তোমরা কি লক্ষ্য করো নি, তোমাদের পালনকর্তা ইরাম গোত্রের সাথে কিরুপ ব্যবহার করেছেন ? যারা ছিল সুউচ্চ স্তম্ভের অধিকারি । সুরা আল ফাজর মুলত আদ জাতি সম্পর্কে বলা হয়েছে। আদ জাতির মধ্যে হটাৎ ইরাম শব্দের সঠিক ব্যাখ্যা কি হবে তা নিয়ে মতানৈক্য ছিল। কেউ বলতো আদ জাতির শারীরিক বৈশিস্ট্য বোঝাতে ইরাম শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। কেউ বলত আদ জাতির একজন বীরের নাম ইরাম। আসলে ১৯৭৩ সালের আগে কারো ব্যাখ্যাই সঠিক ছিল না। কোন ইতিহাসবিদও ১৯৭৩ সালের আগে ইরাম এর সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারে নি। কিন্তু ন্যাশনাল জিওগ্রাফি ১৯৭৩ সালে সিরিয়ায় মাটির নিচে একটি শহরের সন্ধান পায়। এই শহরটি ছিল আদ জাতিদের শহর। সেই শহরে পাওয়া যায় সুপ্রাচীন উঁচু উঁচু দালান। এমনকি এই শহরে আবিস্কার হয় তখনকার একটি লাইব্রেরি। এই লাইব্রেরিতে একটি তালিকা পাওয়া যায়। এই তালিকায় তারা যেসকল শহরের সাথে বাণিজ্য করতো, সেসকল শহরের নাম উল্লেখ ছিল। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য – এই তালিকায় ‘ইরাম’ নামে একটি শহরের নামও পাওয়া যায়, যা আদ জাতিদেরই একটি শহর ছিল। শহরটি ছিল একটি পাহাড়ের মধ্যে । এতেও ছিল সুউচ্চ দালান। চিন্তা করুন, ১৯৭৩ সালের আগে কেউ ‘ইরাম’ এর সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারে নি, সেখানে কোরানে কিভাবে ৪৩০০ বছর আগের আদ জাতিদের শহরের নাম উল্লেখ করলো ? যেটা আমরা জেনেছি ১৯৭৩ সালে, সেটা মুহাম্মদ সাঃ কিভাবে ১৪০০ বছর আগে জানতেন ? সুতরাং কোরান কোন মানব রচিত গ্রন্থ নয়। কোরান মহান আল্লাহর বানি। নক্ষত্রটির নাম Sirius। রাতের আকাশে এই তারাটাকে দেখতে সবচেয়ে উজ্জ্বল দেখায়! খালি চোখে দেখা না গেলেও এটা মূলত দুইটা তারার সমষ্টি। একটির নাম Sirius-A , অপরটির নাম Sirius-B। Sirius-A সূর্য থেকে প্রায় দ্বিগুণ বড়, খুব একটা বড় মনে হচ্ছে না? আমাদের পৃথিবীর ব্যাসার্ধ ৬৩৭১ কিলোমিটারের মত। এমন বারোলক্ষ পৃথিবী এক সাথে করলে তা সূর্যের সমান হবে। অবশ্য সবচেয়ে বড় নক্ষত্রের তুলনায় সূর্য কিছুই না। সবচেয়ে বড় নক্ষত্রের নাম VY Canis Majoris। পৃথিবী থেকে প্রায় ৫০০০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই নক্ষত্রটি সূর্য থেকে প্রায় ১৫৪০ গুন বড়। অন্যদিকে, Sirius আমাদের পৃথিবী থেকে ৮.৬ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। আলোকবর্ষ মানে নিশ্চয়ই জানেন! আলো এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে। এক বছর বাদ দেই, আলো এক সেকেন্ডে তিন লক্ষ কিলোমিটার অতিক্রম করে, মানে আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৬৩৮ বার ঢাকা থেকে সিলেট যেয়ে আবার ঢাকায় ফেরত আসতে পারবে। – সবারই নিতান্ত শখের বশে হলেও মাঝে মাঝে এস্ট্রোনমি নিয়ে পড়াশুনা করা উচিৎ! দেখবেন মনের ইগো অনেক কমে যাবে, এই “Infinitely Finite” ইউনিভার্সের সাপেক্ষে চিন্তা করলে যদি পৃথিবীকে বলি অসীম সমুদ্রে এক ফোঁটা জল, একটুও বাড়াবাড়ি হবে না। সেখানে আমরা কোন ছাড়! এই অসীম মহাবিশ্ব আপনাকে শিখাবে এর স্রষ্টার বিশালত্ব, দেখবেন মাথা আপনা-আপনি বাধ্য হবে তাঁর উদ্দেশ্যে সিজদা দেয়ার জন্য। Sirius কে আরবে ‘মারযামুল জাওযা’ বলা হতো, আরবের একটা দল এর উপাসনা করত। আল্লাহতায়ালা তাই কুরআনে নাযিল করলেন, وَأَنَّهُ هُوَ رَبُّ الشِّعْرَى “It is He(ALLAH) who is the Lord of the Sirius” (সুরা আন নাজম:৪৯) – মেসেজটা খুব ক্লিয়ার- Sirius এর বিশালত্বে মুগ্ধ হয়ে এটার ইবাদত না করে তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো। কারণ, আল্লাহতায়ালাই এর সৃষ্টিকর্তা। বিংশ শতাব্দীর আগ পর্যন্ত বিজ্ঞানিদের মৌমাছির জীবন চক্র নিয়ে সুস্পষ্ট কোন ধারনা ছিলনা। তারা গতানুগতিক একটি ধারনার উপর মনে করতো, মৌমাছি দুই রকমের। একটি হলো- পুরুষ মৌমাছি। এদের কাজ স্ত্রী মৌমাছিদের সন্তান উৎপাদন কার্যে সহায়তা করা,গৃহ (মৌচাক) নির্মাণ,ফুল থেকে মধু সংগ্রহ,গৃহ পাহারা দেওয়া ইত্যাদি। আরেকটি হলো- স্ত্রী মৌমাছি(Queen Bee)।এদের কাজ হলো শুধু সন্তান উৎপাদন। এটি ছিল বিজ্ঞানিদের প্রথমদিকের ধারনা। শেক্সপিয়ারের অনেকগুলো বিখ্যাত নাটকের একটি হলো- ‘Henry The Fourth’। ধারনা করা হয়,শেক্সপিয়ার এটি লিখেছিলেন ১৫৯৭ সালের দিকে,এবং এটি প্রিন্টেড হয় ১৬০৫ সালের দিকে। সেই নাটকে এক পর্যায়ে বলা হয়েছে, পুরুষ মৌমাছিরা মধু সংগ্রহ করে এবং তাদের একজন রাজা থাকে।দিনশেষে সব সৈনিক মৌমাছিদের এই ‘রাজা’ মৌমাছির কাছে এসে কৈফিয়ত দিতে হত কি কি কাজ তারা পুরোদিনে করেছে। এটি ছিল শেক্সপিয়ারের সময়কার লোকজনের মৌমাছি নিয়ে ধারনা। কিন্তু বিজ্ঞান তখনও আবিষ্কার করতে পারেনি আসল কাহিনীটা। ‘ ১৯৭৩ সালে অষ্ট্রিয়ান বিজ্ঞানি Karl Von-Frisch ‘Physiology or Medicine’ বিষয়ে সফল গবেষণার জন্য চিকিৎবিজ্ঞানে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন।তার গবেষণার বিষয় ছিল ‘মৌমাছির জীবনচক্র’। তিনি এই বিষয়ে একটি বই লিখেছেন যার নাম ‘The dancing bees’। তিনি বৈজ্ঞানিক ভাবে(ফটোগ্রাফি এবং অন্যান্য পদ্ধতি অবলম্বন করে) প্রমান করে দেখিয়েছেন যে, মৌমাছি তিন ধরনের। প্রথমটি হচ্ছে- স্ত্রী মৌমাছি।এদের কাজ শুধু সন্তান উৎপাদন।আর কোন কাজেই এরা অংশগ্রহণ করেনা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে- পুরুষ মৌমাছি।এদের কাজ হচ্ছে শুধু স্ত্রী মৌমাছিদের (Queen bee) সন্তান উৎপাদনের জন্য প্রজনন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা।এর বাইরে এরা আর কোন কাজ করেনা। তৃতীয়টি হচ্ছে- এরাও স্ত্রী মৌমাছি কিন্তু বন্ধ্যা।মানে,এরা কখনই সন্তান উৎপাদন করতে পারেনা।প্রাকৃতিক ভাবেই এরা বন্ধ্যা হয়ে থাকে।এদের অন্য নামে বলা হয়- ‘কর্মী মৌমাছি’। মৌচাক নির্মাণ,মধু সংগ্রহ সহ তাদের যাবতীয় কাজ সম্পাদন করে এই কর্মী স্ত্রী মৌমাছিরাই। পুরুষ মৌমাছি এবং স্ত্রী (Queen bee) মৌমাছি সন্তান উৎপাদন ছাড়া মৌচাক নির্মাণ,মধু সংগ্রহ সহ অন্যকোন কাজেই অংশগ্রহণ করেনা।এসব করে কর্মী মৌমাছি বা দ্বিতীয় ক্যাটাগরির স্ত্রী মৌমাছি। (এদের Queen bee বলা হয়না, Worker Bee বলা হয়)। তিনি আরো প্রমান করে দেখিয়েছেন যে,যখনই একটি কর্মী মৌমাছি নতুন কোন ফুলের বাগান বা উদ্যানের সন্ধান পায়,তখন সাথে সাথে গিয়ে অন্য কর্মী মৌমাছিদের নতুন এই ফুলের বাগান/উদ্যানের সঠিক দিক নির্দেশনা জানিয়ে দেয়। Karl Von-Frisch এটার নাম দিয়েছেন – ‘Waggle Dance’। শেক্সপিয়ায়ের সময়কার পুরো বিশ্বাস পাল্টে দিয়েছে বিজ্ঞানি Karl Von Frisch এর এই আবিষ্কার। ‘ এবার চলুন কোরআন কি বলে দেখা যাক। কোরআনে মৌমাছির নামানুসারে একটি পুরো সূরা আছে।সেটি হলো- সূরা আন-নাহল।আরবিতে ‘নাহল’ মানে মৌমাছি। এই সূরার ৬৮ এবং ৬৯ নং আয়াতে সরাসরি মৌমাছি নিয়ে কথা বলা হয়েছে। প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে একটি ব্যাপারে বলে নিই। সেটি হচ্ছে,- বাংলা/ইংরেজিতে ক্রিয়ার (Verb) কোন লিঙ্গান্তর হয়না।মানে, ক্রিয়ার পুংলিঙ্গ/স্ত্রী লিঙ্গ হয়না। আমরা ইংরেজিতে পুংলিঙ্গ এবং স্ত্রী-লিঙ্গের জন্য একই verb ব্যবহার করি। যেমন, He does the work.. (পুং লিঙ্গের জন্য does) আবার, She does the work.. (স্ত্রী লিঙ্গের জন্যও does)। কিন্তু এ্যারাবিকে এরকম নয়।এ্যারাবিকে পুংলিঙ্গ এবং স্ত্রী লিঙ্গের জন্য আলাদা আলাদা verb ব্যবহৃত হয়।যেহেতু, আল কোরআন আরবি ভাষায় নাজিল হয়েছে,তাই আমাদেরকে আরবি ব্যাকরণ দিয়েই কোরআন বুঝতে হবে। এবার সূরা আন নাহলের ৬৮ আয়াতে চলে যাওয়া যাক। আয়াতটি হলো- وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ ‘ওয়া আওহা রাব্বুকা ইলান নাহলি আনিত্তাখিযি মিনাল জিবালি বুইঊতাও ওয়া মিনাশ শাজ্বারি ওয়া মিম্মা ইয়ারিশুন।’ বাংলা অর্থ- ‘আপনার রব মৌমাছিকে আদেশ দিয়েছেন যে, মৌচাক বানিয়ে নাও পাহাড়ে,বৃক্ষে এবং মানুষ যে গৃহ নির্মান করে, তাতে।’ আপনি যদি আরবি ভাষা জানেন বা আরবি ব্যাকরণ বুঝেন, তাহলে অবশ্যই আপনার জানার কথা ‘পুরুষ মৌমাছি’র জন্য আরবিতে ব্যবহৃত verb হলো- ‘ইত্তাখিজ’, আর ‘স্ত্রী মৌমাছি’র জন্য ব্যবহৃত verb হলো- ‘ইত্তাখিজি’।আলাদা আলাদা শব্দ। উপরের আয়াতে দেখুন, আল্লাহ সুবহান। ওয়া’তালা উক্ত আয়াতে ‘ইত্তাখিজ’ ব্যবহার না করে ‘ইত্তাখিজি’ শব্দ ব্যবহার করেছেন।তাহলে নিশ্চিতরূপে বোঝা গেলো- উক্ত আয়াতে মৌমাছির প্রতি যে নির্দেশ দেওয়া হলো, তা অবশ্যই অবশ্যই স্ত্রী মৌমাছির জন্য। যদি পুরুষ মৌমাছিকে ইনডিকেইট করা হতো,তাহলে উক্ত আয়াতে কখনোই ‘ইত্তাখিজি’ ব্যবহার হতোনা, ‘ইত্তাখিজ’ শব্দ ব্যবহার করতে হতো।যদি ‘ইত্তাখিজ’ শব্দ ব্যবহার হতো,তাহলে সেটা আরবি ব্যাকরণ অনুসারে ভুল তো হতোই, মডার্ন সাইন্স অনুসারেই সেটা ভুল প্রমান হতো। কারন বিজ্ঞানি Karl Von-Frisch প্রমান করে দেখিয়েছেন যে, মৌচাক নির্মাণ, মধু সংগ্রহ ইত্যাদিতে পুরুষ মৌমাছি নয়, স্ত্রী মৌমাছিই অংশ নেয়। চিন্তা করুন, বিজ্ঞান যেটা জানতে পারলো ১৯৭৩ সালে, কোরআন সেটা কতো আগেই সু-স্পষ্ট ভাবে বলে দিয়েছে। সুবাহান-আল্লাহ।। ‘ Karl Von Frisch প্রমান করেছেন, একটি কর্মী মৌমাছি যখন কোন নতুন ফুলের বাগান/উদ্যানের সন্ধান পায়, সাথে সাথে অন্য কর্মী মৌমাছিদের সেই উদ্যান সম্পর্কে অবহিত করে।এক্সাক্টলি যে পথে গিয়ে মৌমাছিটি এই উদ্যানের সন্ধান পায়,অন্যদেরও ঠিক সে পথের সন্ধান দেয়।পথের এই সন্ধান দানে মৌমাছিটি কোনরকম হেরফের করেনা।সে যে পথে গিয়ে তা দেখেছে,ঠিক তাই-ই অন্যদের জানায়।অন্যপথ দিয়ে যেতে বলেনা। Karl Von Frisch এর ভাষায় এটি হলো- ‘ ‘Waggle Dance’। সুরা নাহলের ৬৯ নং আয়াত দেখুন- ‘ অত:পর, চোষন করে নাও প্রত্যেক ফুল থেকে,এবং চল স্বীয় রবের সহজ-সরল পথে’। লক্ষ্য করুন, এখানে আল্লাহ বলছেন, ‘চলো স্বীয় র’বের সহজ – সরল পথে’। আচ্ছা, এটি কি মানুষকে বলা ‘সহজ-সরল’ পথ বা ‘সিরাতুল মুস্তাকিম’? না। কেন? কারন, মানুষের পরকালে জবাবদিহির দায় আছে,মৌমাছির তা নেই। তাহলে তাদের কোন সহজ-সরল পথে চলার কথা বলা হচ্ছে? অবশ্যই, এটি Karl Von Frisch এর সেই মৌমাছিদের ‘Waggle Dance’। এক্সাক্ট যে পথ,যা তারা জানে।যা তার জন্য সহজ এবং অন্যান্যদের জন্যও সহজ। সুবাহান-আল্লাহ!! ১৯৭৩ সালে যা আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানি Karl Von Frisch চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন, আল্লাহ সুবাহান ওয়া’তালা তা কোরআনে চৌদ্দশত বৎসর আগেই জানিয়ে রেখেছেন। ‘

 

আরো পরুনঃ স্রস্টার সন্ধানে

36 total views, 7 views today

2 thoughts on “কোরআন কার বানী ? ১ম পর্ব

  • September 13, 2017 at 7:35 pm
    Permalink

    ধন্যবাদ। তথ্যগুলো অজানা ছিল। তবে আরো তথ্য লেখা যেত।

    Reply
    • September 13, 2017 at 7:40 pm
      Permalink

      এটা প্রথম পর্ব। আরো কয়েকটি পর্ব লেখার ইচ্ছে আছে। আস্তে আস্তে তথ্যগুলো আপডেট করবো ইনশাল্লাহ।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *